বন বিভাগের বাধা, মন্ত্রীর ডিও লেটারে কাজ শুরু

এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, রাস্তাটি যে বন এলাকায় পড়েছে, সেটি তাঁরা আগে জানতেন না।

বন বিভাগের আপত্তি উপেক্ষা করে রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু করেছে এলজিইডি। গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনে।
ছবি: প্রথম আলো

বন বিভাগের বাধার পরও মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের ভেতরে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না নেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলজিইডির কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তা উপেক্ষা করে রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে।

এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, রাস্তাটি যে বন এলাকায় পড়েছে, সেটি তাঁরা আগে জানতেন না। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী ও মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা) আসনের সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিনের ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তাটির কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এলজিইডির মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন সরদার বলেন, বন বিভাগের আপত্তির পর উপজেলা প্রকৌশলী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে আজ শনিবার দুপুরে দেখা যায়, এক্সকাভেটর দিয়ে রাস্তা খুঁড়ে বক্স করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ মিটার রাস্তায় এ কাজ হয়ে গেছে। রাস্তার শুরুর প্রান্তে বেশ কিছু ইট স্তূপ করে রাখা। এলাকাবাসী বলেন, দু-তিন দিন আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে।

বনের ওই স্থানে বেশ কিছু ফরেস্ট ভিলেজার পরিবার থাকে। এসব পরিবারের সদস্য তানু মিয়া, মোরশেদ মিয়া, অজু মিয়াসহ আরও কিছু লোক বলেন, রাস্তা পাকা হলে তাঁদের চলাচলের সুবিধা হবে।

বন বিভাগের আপত্তির পরও কাজ শুরু করা প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্যারাডাইজ কনস্ট্রাকশনের’ মালিক সাইদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কাজের অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এলজিইডি ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলা এলাকায় লাঠিছড়া থেকে লালছড়া হয়ে রুপাছড়া পর্যন্ত কাঁচা রাস্তার শুরু থেকে এক কিলোমিটার জায়গা পাকাকরণের জন্য এলজিইডি দরপত্র আহ্বান করে। প্রায় ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্যারাডাইস কনস্ট্রাকশন’ নামের স্থানীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কার্যাদেশে ২ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করতে বলা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সম্পন্ন হওয়ার কথা। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের জন্য রাস্তার পাশে ইট স্তূপ করতে শুরু করে। পরে বন বিভাগের লোকজন খোঁজ নিয়ে রাস্তার পাকাকরণের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর বন বিভাগের স্থানীয় লাঠিটিলা বিটের ফরেস্টার সালাহ উদ্দিন এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলীর কাছে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে সংরক্ষিত বন এলাকায় কোনো ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়।

এ নিয়ে ১৭ এপ্রিল প্রথম আলোতে ‘জুড়ীর সংরক্ষিত বনে রাস্তা করতে চায় এলজিইডি, কাজ বন্ধে বন বিভাগের চিঠি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বন বিভাগ জানায়, লাঠিটিলা বনের আয়তন ৫ হাজার ৬৩০ দশমিক ৪০ একর। সেখানে প্রাকৃতিক বন, সৃজিত বিভিন্ন ধরনের বনজ গাছের বাগান, বাঁশমহাল ও বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী রয়েছে। এটি সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।

বন বিভাগের জুড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, লাঠিটিলা বনে রাস্তা পাকাকরণের ব্যাপারে তাঁদের কাছ থেকে আগে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া রাস্তাটি হলে ওই এলাকার পুরোনো সেগুনবাগান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। কাঠ চোরাকারবারিদের তৎপরতা বেড়ে যাবে। এ ছাড়া বন এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। রাস্তা পাকাকরণে অনুমোদনের বিষয়ে লিখিত কোনো নির্দেশনা এখনো তাঁরা পাননি।

এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী বন বিভাগের আপত্তির বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছেন। রাস্তা পাকা হলে লোকজনের চলাচলে সুবিধা হবে। রাস্তার কাজ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যাপারে সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।