বরিশাল বিভাগে প্রথম দিনে টিকা পেয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার জন

গণটিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে টিকা নেন অনেকে। গতকাল শনিবার বরিশাল সদরের কড়াপুর পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে
ছবি: সাইয়ান

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় গতকাল শনিবার করোনার গণটিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৯ ব্যক্তি টিকা নিয়েছেন। এক দিনের এই ক্যাম্পেইনে স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার টিকাদানের। টিকা পেয়েছেন ২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৯ জন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৯৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

তবে বৈরী আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে কিছু কেন্দ্রে গতকাল গণটিকার ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা যায়নি। সেসব কেন্দ্রে আজ রোববার সকাল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চলছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিভাগে বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রত্যন্ত এলাকার টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। টিকা নেওয়ার ব্যাপারে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের এ আগ্রহকে ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

বিভাগের ছয় জেলার ৪২টি উপজেলার ৫৫৮ ইউনিয়নে এবং ২৬টি পৌরসভায় এই গণটিকা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর বাইরে টিকা দেওয়া হয় বরিশাল নগরের ৬৪টি কেন্দ্রে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বরিশাল নগর বাদে বাকি কেন্দ্রগুলোতে চীনের তৈরি সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হয়। বরিশাল নগরে দেওয়া হয় মডার্নার টিকা। বরিশাল নগরে এক দিনের ক্যাম্পেইনে ১৮ হাজার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সেখানে দেওয়া হয়েছে ১৮ হাজার ২৩০ জনকে।

বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশালে টিকা পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২১৮ জন, ভোলায় ৪৬ হাজার ৫২৫, বরগুনায় ২৬ হাজার ১৫৪, পিরোজপুরে ২৮ হাজার ৭৭৮, পটুয়াখালীতে ৪৪ হাজার ৮ ও ঝালকাঠিতে ২১ হাজার ৪০৬ জন টিকা পেয়েছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বিভাগে ইতিমধ্যে সিনোফার্মের ৫ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টিকা এসেছে। আর মডার্নার টিকা পাওয়া গেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ ডোজ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, টিকা নেওয়ার ব্যাপারে মানুষের সাড়া অভাবনীয়। এটা ইতিবাচক। পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন। টিকা নেওয়ার ব্যাপারে মানুষের এমন সচেতনতা স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রেও থাকলে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।