বরিশালে কীর্তনখোলার তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেশ কিছু আধা পাকা স্থাপনা এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়
ছবি: প্রথম আলো

বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জমি দখল করে গড়ে ওঠা অন্তত ৬০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের নির্দেশে বেলা ১১টায় বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাদের নিয়ে নগর পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ দস্তগীর এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সেখানে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সকালে নগরের মুক্তিযোদ্ধা পার্কসংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএর প্রশিক্ষণ একাডেমি এলাকায় প্রথমে এই অভিযান শুরু হয়। এরপর ডিসিঘাট, স্টিমারঘাট ও নদীবন্দর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় বেশ কিছু আধা পাকা স্থাপনা এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

মো. মারুফ দস্তগীর বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে আছেন, পর্যায়ক্রমে দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি নদীর সৌন্দর্য রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও আমাদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসন কীর্তনখোলার তীরের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপাশি ১৯৫০ সালের ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী নদীর তীরভূমির (ফোরশো) ৫০ ফুটের মধ্যে কোনো স্থাপনা থাকতে পারবে না। সে অনুযায়ী উচ্ছেদ ও স্থায়ী পিলার স্থাপনের জন্য প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার আমরা দাবি জানাই।’