বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্তদের সেবায় মানবিক সংস্থাগুলো একজোট

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ইতিমধ্যে দেশের শতাধিক মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ হাজার। শুধু প্রাণহানিই নয়, এই ভাইরাসের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সমস্যা মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের মানবিক সংস্থাগুলো একজোট হয়েছে।

মানুষের জন্য কী করণীয়, তা নির্ধারণ করতে সবার অংশগ্রহণে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এ জন্য কাজ শুরু করছে। যার অধীন সরকারি সংস্থা, জাতিসংঘের সংস্থা এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো আর্থসামাজিক সমস্যা মোকাবিলার জন্য একত্র হয়েছে। কেয়ার বাংলাদেশ এই নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কো চেয়ার হিসেবে কাজ করছে।

সংগঠনগুলো মনে করছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য সরকার লকডাউন ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এতে প্রায় ২০ শতাংশ চূড়ান্ত দরিদ্র পরিবার এবং অজস্র মানুষ মারাত্মক আর্থসামাজিক সমস্যার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। এ ছাড়া ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, আসন্ন ঘূর্ণিঝড় এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে আগামী মাসগুলোয় এই মানুষগুলোকে আরও কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওয়াল্টার মওয়াসা বলেন, ‌‘দুই মাস আগেও বিশ্বে ২০২০ সালের জন্য বিশাল পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখন ভবিষ্যতে নিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই অনিশ্চয়তা রোধে আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি।’
কেয়ার বাংলাদেশের মানবিক সাহায্য কর্মসূচির পরিচালক কায়সার রিজভী বলেন, ‘চলমান স্বাস্থ্য সংকটটি মানবিক সংকটে পরিণত হতে পারে, যা সম্ভবত দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। আমরা ৬৫টিরও বেশি মানবিক সংস্থা (সরকার, এনজিওএস, আইএনজিও, জাতিসংঘের এজেন্সি) একসঙ্গে কাজ শুরু করেছি। আমি বিশ্বাস করি, এসব সরকারি ও বেসরকারি মানবিক সংস্থাগুলোর পরিকল্পনা এবং সম্পদ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।’

কায়সার রিজভী বলেন, পাঁচটি মূল সূচকের ওপর ভিত্তি করে সংক্রমণের ঝুঁকি, মানবিক জীবনযাপনের আশঙ্কা, জনসংখ্যা, সামাজিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক ও শারীরিক দুর্বলতা এবং বারবার দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০টি জেলা সবচেয়ে বেশি দুর্বল এবং আর্থসামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অআশঙ্কা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জেলা হলো বান্দরবান, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, পটুয়াখালী, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, নীলফামারী, কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, রাঙামাটি, রংপুর, শেরপুর, খুলনা, বরগুনা, বগুড়া ও দিনাজপুর।

এসব জেলার মানুষদের বিভিন্ন রকম সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ শুরু করেছি। এটি চলমান থাকবে।