বাবাকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন, ছেলেকে পুলিশে সোপর্দ
বাবা মমশ্বর আলীর (৭০) দেখভাল ঠিকমতো করেন না তাঁর একমাত্র ছেলে সোহেল মিয়া (৩২)। এ নিয়ে কথা বললে উল্টো বৃদ্ধ বাবাকে মারধর করেন তিনি। প্রায়ই ছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার হন মমশ্বর আলী। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার শিকল দিয়ে বেঁধে বাবাকে মারধর করেছেন সোহেল।
প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের রুক্কা গ্রামের ঘটনা এটি। অভিযুক্ত সোহেল মিয়াকে আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লার আহমদ বলেন, মমশ্বর আলী একসময় কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন। বয়সের কারণে এখন কোনো কাজ করতে পারেন না। এখন সংসার চালান তাঁর ছেলে সোহেল মিয়া। বাবাকে ঠিকমতো দেখাশোনা ও খাবার দেন না তিনি।
এ নিয়ে প্রতিবেশীদের কাছে দুঃখ করেন মমশ্বর আলী। এতে খেপে যান সোহেল। বাবাকে প্রায়ই মারধর করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বাবাকে ঘরের বারান্দার খুঁটিতে শিকল দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, সোহেল মিয়া বখাটে প্রকৃতির। নির্দিষ্ট কোনো কাজ করেন না। আর মমশ্বর আলী বয়সের কারণে অসহায়। কারণে-অকারণে সোহেল বাবাকে মারধর করতেন। এ কারণে গ্রামের লোকজনও তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ফলে তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।