বাবার কাছ থেকে টাকা আদায়ে অপহরণের নাটক
নওগাঁর বদলগাছীতে আত্মগোপন করে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার যুবকেরা হলেন বদলগাছী উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের রাসেল রানা (২৮) এবং একই উপজেলার রনাহার গ্রামের ফয়সাল আহম্মেদ (২৪)। তাঁদের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার রাসেল রানা উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের সিদ্দিক রহমানের ছেলে। গত রোববার বিকেলে বদলগাছী উপজেলা সদরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাসেল নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাসেলের নম্বর থেকে ফোন করে রাসেলকে অপহরণ করা হয়েছে বলা হয় এবং একটি বিকাশ নম্বর লিখে নিতে বলা হয়। ওই নম্বরে দ্রুত ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠাতে বলা হয়।
ওই দিন রাতেই রাসেলের বাবা বদলগাছী থানায় এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে রাসেলকে উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় রাসেলের মুঠোফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গতকাল বুধবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের পেছন থেকে অপহৃত রাসেলকে উদ্ধার করে বদলগাছী থানা-পুলিশ। পরে তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই রাতেই পুলিশ পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে রাসেলের সহযোগী ফয়সাল আহম্মেদ ওরফে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তার যুবকদের দেওয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে রাসেল বিপুল অঙ্কের দায়দেনার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধ করতে রাসেল বেশ কয়েকবার তাঁর বাবার কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা সিদ্দিক রহমান তাঁকে টাকা দিতে রাজি হননি। পরে রাসেল বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হন এবং ফয়সালের সহযোগিতা নিয়ে অপহরণের নাটক সাজান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার, মামুন খান চিশতী, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী যোবায়ের আহমেদ প্রমুখ।