বারহাট্টায় মডেল মসজিদ ভবনের একটি অংশে ধস, নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ভবনের তৃতীয় তলার একটি বিম ধসে পড়েছে। রোববার রাতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ভূমি কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ভূমি কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ভবনের তৃতীয় তলার একটি অংশ ধসে গেছে। গতকাল রোববার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ জোরালো হয়েছে। ভবন নির্মাণে ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সারা দেশে প্রতিটি জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। জেলা গণপূর্ত বিভাগ বাস্তবায়ন করছে বারহাট্টায় উপজেলা ভূমি কার্যালয় এলাকায় মসজিদ নির্মাণ। ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮ টাকা। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিলে স্টার লাইন সার্ভিস লিমিটেড অ্যান্ড নাঈমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদকাল ১৫ মাস ধরা হয়। সে হিসাবে ২০২০ সালের জুলাইয়ে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ এখনো প্রায় ৩৫ শতাংশ বাকি।

এ বিষয়ে জানার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমানকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। তবে নির্মাণকাজ দেখভালে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা শিডিউল মোতাবেক কাজ করছি। আর পিলার ও বিমে কিছু ভুল থাকায় ভেঙে সরানো হয়েছে। রড, পাথর এসব ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নানা রকম অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। বালি, পাথর, ইট, রডসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে তৃতীয় তলার দক্ষিণ পাশে নির্মাণাধীন একটি বিম ও খুঁটি (পিলার) হঠাৎ ধসে পড়ে। এ নিয়ে আজ সোমবার বেলা একটার দিকে স্থানীয় কিছু লোকজন বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজনকে বুঝিয়ে শান্ত করেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মসজিদটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। আমরা মসজিদ পেয়ে খুবই আনন্দিত। কিন্তু মসজিদটির নির্মাণকাজ খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ করছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুউদ্দিন, বারহাট্টা কাচারী মোড় এলাকার বাসিন্দা

বারহাট্টা কাচারী মোড় এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুউদ্দিন বলেন, ‘মসজিদটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। আমরা মসজিদ পেয়ে খুবই আনন্দিত। কিন্তু মসজিদটির নির্মাণকাজ খুবই নিম্নমানের হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ করছে। কাউকে তোয়াক্কা করছে না। আমরা বারবার এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিচ্ছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় গতকাল দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দে মসজিদের একটি বিম ধসে পড়ে। তড়িঘড়ি করে আবার নতুন বিম তৈরি করা হচ্ছে।’

মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বালু, পাথর, ইট, সিমেন্ট, রডসহ প্রায় সব উপাদানই নিম্নমানের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করলেন বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক মো. শহিদুল রহমান। তিনি বলেন, গ্রেডহীন মরিচা ধরা রড ব্যবহার হচ্ছে। বিমে ১০ মিলি মিটার রড দেওয়া হচ্ছে। এখন বিম ধসে পড়েছে। গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো নজরদারি নেই।

নির্মাণাধীন মসজিদ ভবনের তৃতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়েছে। রোববার রাতে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ভূমি কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায়
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসিনুর রহমান বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। বিম ও পিলার ধসে পড়েনি। ত্রুটি থাকায় তা ভেঙে নতুন করে করার জন্য বলা হয়েছে। রডে বাতাস লাগলে জং ধরে। এতে কোনো সমস্যা হয় না।

বারহাট্টা হাফিজিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা খুবই হতাশ। এখানে নামাজ আদায় করার সময় আতঙ্কে থাকতে হবে। আমরা চাই, বিশেষজ্ঞরা এসে উন্নত যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করুন। তাহলে বেরিয়ে আসবে এখানে কী পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে।’

ইউএনও এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’