বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীকে পেটানোর অভিযোগ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল কবীর ওরফে জাহিদের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান।
লিখিত অভিযোগে মিজানুর রহমান বলেন, ‘শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিই। দুপুরে বহিরাগত একজন প্রশিক্ষণস্থলে গিয়ে জানান, অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল কবীর তাঁকে ডাকছেন। কক্ষের বাইরে যাওয়ার পর ইকবাল কবীর তাঁকে একাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশের সিঁড়ির নিচে নিয়ে যান। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার কানে থাপ্পড় মারেন তিনি। আমি ঘটনার তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তার দাবি করছি।’
মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেটর সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ টাকার প্রকল্পের বিপরীতে সিকিউরিটি বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জামানত রাখা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র আজিজকে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন ইকবাল কবীর। একাধিকবার তিনি সুপারিশ করেন। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া টাকা দিতে পারবেন না বলে তাঁকে জানান। এ জন্য তিনি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক ইকবাল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের অভিযোগ মিথ্যা। একজন কর্মকর্তাকে তিনি কেন মারবেন? মূলত প্রকৌশলী মিজানুর ও বহিষ্কৃত ছাত্র আজিজের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হচ্ছিল। তখন তাঁদের থামাতে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন।
প্রকৌশলী মিজানুর কেন মিথ্যা অভিযোগ দেবেন প্রশ্ন করলে ইকবাল কবীর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেম ক্রয়-সংক্রান্ত দুর্নীতির নিয়ে আমি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে প্রকৌশলী মিজানুর অভিযুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়ায় আমার ওপর ক্ষুব্ধ তিনি। এ জন্য তিনি মিথ্যা নাটক সাজাতে পারেন।’