আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদী
ভাঙনের কবলে চার বিদ্যালয়
প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। তবে ভাঙনকবলিত বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আজ রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। তবে ভাঙনকবলিত চারটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।
বিদ্যালয় তিনটি উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের পাচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর পাচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোপালপুর ইউনিয়নের বাজরা চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চারটি বিদ্যালয়ের ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক আছেন ১৭ জন।
পশ্চিম নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মধুমতী নদীর ভাঙন মাত্র আট ফুট দূরে রয়েছে। বিদ্যালয়টি ১৯৮০ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে ১১০ জন এবং শিক্ষক আছেন ৪ জন। এ বিদ্যালয়ে নতুন একটি টিনের ঘর ও পুরোনো একটি একটি ভবন রয়েছে।
পশ্চিম নারানদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাব বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন থেকে মাত্র আট ফুট দূরে নদী। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়ের টিনের ঘরটি বিলীন হয়ে যেতে পারে।
পাচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৩৫ সালে ৩০ শতাংশ জমির ওপর এটি স্থাপন করা হয়। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৬৮ জন এবং শিক্ষক আছেন ৪ জন। মধুমতী নদীর ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি ৭৫ ফুট দূরে রয়েছে। দুটি পাকা ভবনে এ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম হয়। একটি ভবন উত্তরে ও অপর ভবনটি পশ্চিমে। উত্তর দিকের ভবনটি মধুমতী নদীর ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
চর পাচুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৩৩ শতাংশ জমির ওপর ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হয়। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭২ জন, শিক্ষক ৫ জন। মধুমতী নদীর ভাঙন এ বিদ্যালয়ের ৪৫ ফুটের মধ্যে চলে এসেছে।
বিশ্বজিৎ ভদ্র বলেন, ভিত পাকা একটি টিনের ঘরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। সে ঘরটিও হুমকির মুখে।
গোপালপুর ইউনিয়নের বাজরা-চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয় ফুট দূরে রয়েছে মধুমতী নদী। বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর স্থাপন করা হয়। বিদ্যালয়ে একটি পুরোনো টিনের ঘর ও নতুন চার কক্ষের একতলা ভবন রয়েছে। এ একতলা ভবনটি ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয়। ওই পাকা ভবনটি হুমকির মুখে রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে ৮৯ জন এবং শিক্ষক আছেন ৪ জন।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা পারভীন বলেন, ভাঙতে ভাঙতে মধুমতী নদীপাড়ের পাকা সড়ক ভেঙে স্কুলের ছয় ফুটের মধ্যে চলে এসেছে। গত সোমবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও দুই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন।
ভাঙনের হাত থেকে বিদ্যালয়ের ভবন রক্ষা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আলফাডাঙ্গার বাজরা ও পশ্চিম চর নারানদিয়া বিদ্যালয় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলা শিক্ষাকর্তাকে ইউএনওর সঙ্গে পরামর্শ করে ভবন নিলামের উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। চর নারানদিয়া স্কুলের টিনের ঘরটি সরিয়ে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাজরার স্কুল ভবনটি রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।