ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

অপরাধ
প্রতীকী ছবি

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডিসহ সরকারি বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার কথা বলে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে শাহেদা বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। অর্থ ফেরত চাওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীদের নামে ওই নারী বগুড়ার আদালতে মামলা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীরা প্রতিকার চেয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সোমবার লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও রেজাউল করিম।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের টুকু তরফদারের স্ত্রী শাহেদা বেগম বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নানা কার্ড দেওয়ার কথা বলে অনেক দরিদ্র নারীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। দীর্ঘদিন ধরনা দিয়েও তাঁরা কার্ড না পেয়ে শাহেদা বেগমের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। উল্টো তাঁদের নাজেহাল করতে গত ১১ এপ্রিল বগুড়া জজ আদালতে মামলা করেছেন শাহেদা।

বড়ইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউএনও কার্যালয়ের অনেকের সঙ্গে জানাশোনা আছে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে শাহেদা বেগম ছয়জনের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে কার্ডের জন্য তাঁর কাছে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও কার্ড না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। টাকার জন্য চাপ দেওয়ায় উল্টো আদালতে মামলা ঠুকে দেন।

নবীতন বেগম নামের ভুক্তভোগী নারী বলেন, ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে শাহেদা তাঁর কাছ থেকে ১২ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আর কার্ড দেননি।

ভুক্তভোগী ফুলেরা বেগম বলেন, ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে শাহেদা ৯ হাজার ৫০০ টাকা চেয়ে বসেন। সেই কার্ডের জন্য সুদের ওপর টাকা নিয়ে শাহেদার হাতে তুলে দেন। কিন্তু কার্ড আর পাননি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহেদা বেগম বলেন, তিনি কারও কাছ থেকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে কোনো টাকা নেননি। উল্টো কয়েকজন নারী তাঁর বাড়িতে এসে গোয়ালের গরু এবং বাড়ির ইট খুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বাধ্য হয়ে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই অভিযোগ অনেক পুরোনো। আমি চেয়ারম্যান হিসেবে অল্প কিছুদিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। প্রশাসনে যেহেতু অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি তারাই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’