ভৈরব করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুতে জেলার শীর্ষে
১৩ উপজেলার জেলা কিশোরগঞ্জ। এই জেলায় করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর গড় সূচকে ভৈরব সবার শীর্ষে। উপজেলাটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯১৫ জন। মারা গেছেন ৩৭ জন। সংক্রমণের এই তথ্য এসেছে ৯ হাজার ৬১১ জনের নমুনা থেকে।
হিসাব করে দেখা গেছে, ভৈরবে আক্রান্তের হার ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। বিপরীতে জেলার বাকি ১২ উপজেলায় এই হার ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ, যা ভৈরবের চেয়ে ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। ভৈরবে আক্রান্তের ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ ব্যক্তি মারা গেছেন। বাকি ১২ উপজেলায় এই হার ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, করোনার জন্য কিশোরগঞ্জ হটস্পট জেলা। আর ভৈরব শুরু থেকেই স্পর্শকাতর উপজেলা হিসেবে বিবেচিত। এই জেলায় এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ১০২ জন। মারা গেছেন ১৭১ জন। এর মধ্যে সদর ও ভৈরবের চিত্র ভয়াবহ। সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ২২৩ জন এবং মারা গেছেন ৬০ জন। সদর উপজেলায় আক্রান্ত হার ১৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং আক্রান্তের ১ দশমিক ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। শতকরা হিসাবে যা ভৈরবের চেয়ে কম।
শুরু থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ভৈরবে আক্রান্তের হার ১৭ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। সূচকের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মৃত্যুহারে। ৩৭ জনের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে সর্বশেষ এক মাসের মধ্যে। বর্তমানে এই জেলায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে ভৈরবের রয়েছে ৫৭৯ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. খুরশীদ আলম। তিনি উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিবও। তিনি বলেন, ভৈরবে দ্রুত আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া লোকজনও। বিশেষ করে সর্বশেষ দুই মাস ধরে এই হার খুবই ঊর্ধ্বমুখী। পরিসংখ্যান আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। লোকজনের মধ্যে এখনো সেভাবে সচেতনতা না বাড়ায় কোনো করণীয় সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
এদিকে ভৈরবের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে করোনা প্রতিরোধ কমিটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণ করতে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জরুরি সভায় মিলিত হন। সভায় আলোচনায় উঠে আসে পদে পদে মানুষের তথ্য গোপন করার প্রবণতার বিষয়টি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাসপাতাল বিমুখিতাও ভাবিয়ে তুলেছে প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের। এই মুহূর্তে ভৈরবে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন ৫৭৯ জন। কিন্তু করোনা আইসোলেশন সেন্টারে রোগীর সংখ্যা ১০ অতিক্রম করছে না। ফলে সামাজিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুবনা ফারজানা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি। তাঁর মতে, ভৈরবের পরিস্থিতি ভালো নেই। খুবই নাজুক। তার চেয়ে নাজুক মানুষের সচেতনতার মাত্রা। নমুনা দেওয়ার কথা বললে এখনো বিষয়টিকে সহজভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি হয়নি এখানকার মানুষের। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।