ভৈরবে ইউপি চেয়ারম্যানের কিশোর ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম মহিউদ্দিন প্রবাল (১৭)। প্রবাল নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানঘর থেকে প্রবালের লাশ উদ্ধার করে সিআইডি পুলিশ। কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড বলে স্থানীয় লোকজন দাবি করছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভৈরবে প্রবালের বাবার মাতৃকা জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল আছে। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবারের সদস্যরা থাকেন। প্রবাল এবার স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছে। ভৈরবের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে প্রবালের সখ্য ছিল। ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্তর মিয়া (২৪) নামের এক যুবক কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে আছেন। অন্তরের সঙ্গে প্রবালের সখ্য গড়ে ওঠে। সম্প্রতি দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ার দুই ঘণ্টা পর রাত আটটার দিকে পুলিশ জানতে পারে, বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাকিল মোটরস নামের দোকানঘরের ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে সড়কে আসছে। দোকানঘরটির মালিক অন্তরের বাবা জিল্লুর রহমান। পুলিশ এসে তালাবদ্ধ কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রবালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। রাত ১১টার দিকে সিআইডি পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রবালের বাবা হোসেন ভূঁইয়ার ভাষ্য, অন্তরের নেতৃত্বে থাকা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রায়ই প্রবালের কাছে চাঁদা দাবি করত। চাঁদা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবাল বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর থেকে ছেলেকে মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। অপরাধীরা ছেলের মোটরসাইকেল ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনের দাবি, ভৈরবে কিশোর অপরাধী থাকলেও গ্যাং নেই।
লাশ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাহফুজ হাসান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, প্রবালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ ঘটনায় প্রবালের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা হবে।
ঘটনার পর থেকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্তরের বাবা জিল্লুর রহমানের নিয়ন্ত্রণাধীন সব কটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বাড়িতেও কেউ ছিল না। মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।