ভৈরবে চেয়ারম্যানের ছেলে খুন: ৩ দিন পর ২ আসামি গ্রেপ্তার

ভৈরবে মহিউদ্দিন প্রবাল হত্যা মামলার দুই আসামি রাজন ও তৌফিককে আটক করেছে র‍্যাব
ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানের কিশোর ছেলে মহিউদ্দিন প্রবাল খুনের তিন দিন পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল শুক্রবার রাতে র‍্যাব তাদের থানায় সোপর্দ করে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন পৌর শহরের কমলপুর এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে রাজন মিয়া ও একই এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে মো. তৌহিদ। তাঁরা প্রবাল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ফলে, এজাহারভুক্ত ছয় আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার হলেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার অন্তর মিয়াকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

র‍্যাবের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রবাল খুন হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে র‍্যাব মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এই অবস্থায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে র‍্যাব তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তবে কোন জায়গা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়, বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ নেই।

র‍্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে কিশোর গ্যাং কালচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাভাবিক সমাজব্যবস্থা প্রত্যাশা করতে হলে তাদের নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। প্রবালও কিশোর গ্যাংয়ের শিকার। এরই মধ্যে দুজনকে ধরা হয়েছে। মূল আসামিসহ বাকিরাও দ্রুত আটক হবে।

প্রবাল (১৭) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউপির চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে। সে এবার স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। ভৈরবে হোসেন ভূঁইয়ার মালিকানাধীন মাতৃকা জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থাকেন। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জিল্লুর রহমানের মালিকানাধীন একটি দোকানঘর থেকে প্রবালের লাশ উদ্ধার করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার হত্যা মামলা হয়। বাদী হোসেন ভূঁইয়া। মোট অভিযুক্ত ছয়জন। ছয়জনের মধ্যে অন্তরের বাবা, অন্তরের দুই ভাই নয়ন মিয়া ও অনীক মিয়া রয়েছে। অন্য দুজন হলেন অন্তরের সহযোগী মো. রাজন ও তৌফিক মিয়া। জিল্লুর রহমান পৌর শহরের কমলপুর এলাকার বাসিন্দা।

মামলাটি তদন্ত করছেন ভৈরব থানার পরিদর্শক (অপারেশন) তারিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রবাল হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার দুজন। তাঁদের আজ আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।