মা-ছেলেকে নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি কারাগারে

কারাগার
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নে মাকে মারধর ও ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশ আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে (৪৫) নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠান।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চরএলাহী ইউনিয়নের চরকলমী থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে কোম্পানীগঞ্জ থানা-পুলিশ। তবে একই মামলার অপর দুই আসামি জাহাঙ্গীরের ছেলে মো. মাসুদ ও একই এলাকার সাইফুল ইসলাম এখনো পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১ মে দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের গরু কিশোর আইয়ুব খানদের খেতের ধান খায়। এতে আইয়ুব গরুকে কয়েকটি আঘাত করে। এ ঘটনার জেরে বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেনের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীরসহ পাঁচ-ছয়জন বসতঘরে ঢুকে আইয়ুব খান ও তাঁর মাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে আইয়ুব খানকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান জাহাঙ্গীর ও তাঁর লোকজন। পরে আইয়ুবকে জাহাঙ্গীরের বাড়ির একটি গাছের সঙ্গে পিছমোড়া করে বেঁধে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়। ছেলের খোঁজে সেখানে আইয়ুবের মা বিবি খতিজা গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মো. ভুট্ট নামের এক ব্যক্তি হাত বাঁধা অবস্থায় আইয়ুব ও তাঁর মাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যান। চেয়ারম্যান থানায় ফোন করে নির্যাতনের বিষয়টি জানান এবং মা-ছেলেকে থানায় পাঠান।

এ ঘটনায় ২ মে আইয়ুব খানের মা বিবি খতিজা বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় জাহাঙ্গীর, তাঁর ছেলেসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক বলেন, মা-ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।