মাদারীপুরে কুপিয়ে বাবার পা বিচ্ছিন্ন ও ছেলেকে জখম করল দুর্বৃত্তরা

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত ছেলে নাজমুল খাঁ
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের কালকিনিতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে বাবার এক পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের মৌলভীকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুইজন হলেন কালকিনির পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারেরচর এলাকার মিরাজ খাঁ (৫০) ও তাঁর ছেলে নাজমুল খাঁ (২২)। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে নাজমুল তাঁর বাবা মিরাজ খাঁকে নিয়ে মৌলভীকান্দি গ্রামে শ্বশুর আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত তিনটার দিকে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় মিরাজ ও তাঁর ছেলেকে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মিরাজের বাঁ পাঁ হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্বজনেরা তাঁদের প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভোরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে পাঠানো হয় রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে।

মাদারীপুরের কালকিনিতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা
ছবি: সংগৃহীত

নাজমুলের শ্বশুর আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ের জামাই ও তার শ্বশুর বিকেলে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। কিন্তু রাতে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আমরা সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। তারা সবাইকেই মুহূর্তেই অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। পরে দুর্বৃত্তরা তাঁর বেয়াই মিরাজ ও মেয়েজামাই নামজুলকে ৮ থেকে ১০ জন কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা মিরাজের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কঠিন বিচার দাবি করছি।’

জানতে চাইলে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত বাবা ও ছেলেকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকেই রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে বাবার অবস্থা বেশি খারাপ।

মাদারীপুরের কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইশতিয়াক আসফাক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মিরাজের বাঁ পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাঁর ছেলের অবস্থায়ও গুরুতর। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চলছে। মূলত ঘটনাস্থল সড়কের সঙ্গে হওয়ায় দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যেতে পেরেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে।