মাসব্যাপী সবার জন্য ইফতার

বিনা পয়সায় ইফতার করার ব্যবস্থা করেছেন সংগঠন ‘ত্রিবেণী’ ও বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

টাঙ্গাইল শহীদ মিনার চত্বরে ইফতার। গত শনিবার সন্ধ্যায়
ছবি: প্রথম আলো

টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুল মালেক। সারা দিন কাজ করে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যায়। তাই তিনি প্রতিদিন ইফতার করেন টাঙ্গাইল শহীদ মিনার চত্বরে। তিনি বলেন, এখানে ইফতার করতে পেরে তাঁর খুব সুবিধা হচ্ছে।

শুধু আবদুল মালেক নন। তাঁর মতো আরও অনেক মানুষের প্রতিদিন বিনা পয়সায় ইফতার করার ব্যবস্থা করেছেন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ত্রিবেণী’ এবং বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি ৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ বিনা পয়সায় এখানে ইফতার করতে পারছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৫ সাল থেকে এই দুই সংগঠন মিলে পবিত্র রমজানে ইফতারের আয়োজন করে। পাঁচ বছর এ কর্মসূচি চলার পর বিগত দুই বছর করোনার কারণে বন্ধ ছিল। এবার আবার এ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এখানে কোনো দিন বুট, মুড়ি, পেঁয়াজু, চপ, জিলাপি, ফলসহ বিভিন্ন ইফতারি দিয়ে রোজাদারদের আপ্যায়ন করা হয়। আবার কোনো দিন খিচুড়ি–মাংসের আয়োজন করা হয়। তবে প্রতিদিনই শরবত থাকে।

গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো এলাকায় ত্রিপল দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। বিকেল হতেই উদ্যোক্তারা প্লেট, গ্লাস গোছানোর কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে দেখা গেল, ভ্যানগাড়িযোগে খিচুরির বড় হাঁড়ি নিয়ে আসা হলো। ইফতারের আধা ঘণ্টা আগে থেকেই দু-একজন করে মানুষ এসে বসতে শুরু করেন। ১০–১৫ মিনিটের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায় শহীর মিনার চত্বর। এখানে দরিদ্র, শ্রমজীবী, শিক্ষার্থী, পথচারী, ছিন্নমূলসহ নানা শ্রেণির মানুষকে ইফতার করতে বসতে দেখা যায়।

মোহাম্মদ আলী নামের এক নৈশপ্রহরী জানান, এ আয়োজন করায় তাঁর মতো স্বল্প আয়ের মানুষের খুব সুবিধা হয়েছে। রোজা রেখে কোথায় ইফতার করবেন, তা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

শমসের আলী নামের এক রাজমিস্ত্রি জানান, তিনি প্রতিদিন এখানে ইফতার করেন। সেই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এখানে কাজ করেন। বস্তিবাসী জুলেখা বেগম জানান, তিনি তাঁর নাতিকে নিয়ে এখানে ইফতার করে যান।

জামালপুর থেকে আসা বেল্লাল হোসেন জানান, একটি কাজে টাঙ্গাইল এসেছিলেন। ইফতারের সময় হয়ে যায়। তখন দেখতে পান, এখানে সবার জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তা দেখে তিনি ইফতার করতে বসে যান।

ত্রিবেণীর সাবেক সভাপতি বিভূতি ভট্টাচার্য্য জানান, প্রথম থেকে শেষ রোজা পর্যন্ত ইফতারের আয়োজন থাকে। সংগঠনের সদস্যরা চাঁদা দিয়ে এর ব্যয় বহন করেন।

ত্রিবেণীর বর্তমান সভাপতি মোমিনুল ইসলাম জানান, অসহায়, মানুষ অনেক তৃপ্তি নিয়ে ইফতারি গ্রহণ করেন। তা দেখে তাঁদের খুব ভালো লাগে।

সরকারি এম এম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা জানান, এটি খুব ভালো উদ্যোগ। সমাজের বিত্তবান মানুষ বা বিভিন্ন সংগঠন এ ধরনের আয়োজন করলে আরও অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।