মুঠোফোন নিয়ে দ্বন্দ্বে কিশোর খুন, বন্ধু আটক
কিশোরগঞ্জে মুঠোফোন নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে ফারহান হাসান (১৬) নামের এক কিশোর খুন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের হারুয়া এলাকার কলেজ-ফিশারি লিংক রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের অভিযানে গভীর রাতে সদরের বৌলাই এলাকা থেকে নিহত ফারহানের বন্ধু অভিযুক্ত মো. ফাহিমকে (২০) আটক করা হয়।
নিহত ফারহান শহরের হারুয়া মানিক ফকির গলির জয়নাল আবেদীনের ছেলে। অন্যদিকে ফারহানের বন্ধু ফাহিম ফিশারি লিংক রোড এলাকার বকুল মিয়ার ছেলে।
একপর্যায়ে ফাহিম তাঁর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে ফারহানের পেট, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার ফাহিমের মুঠোফোনটি দুই দিন ব্যবহার করার জন্য নেন ফারহান। তিন দিন পর ফাহিম তাঁর মুঠোফোনটি ফেরত চাইলে ফারহান দিতে চায়নি বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ফাহিম তাঁর মুঠোফোন ফেরত পেতে ফারহানের বাবা জয়নাল আবেদীনকে বিষয়টি জানান। তখন জয়নাল আবেদীন ছেলের কাছ থেকে মুঠোফোনটি নিয়ে ফাহিমকে ফেরত দেবেন বলে আশ্বাস দেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে ফাহিম মুঠোফোনটি আনার জন্য ফারহানের বাসায় গেলেও সে মুঠোফোনটি ফেরত দেয়নি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কলেজ-ফিশারি লিংক রোডে ফারহানের সঙ্গে দেখা হলে ফাহিম আবারও তাঁর মুঠোফোনটি ফেরত চান। এ সময় তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ফাহিম তাঁর সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে ফারহানের পেট, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান। এতে ফারহান গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে।
পরে পথচারী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক ফারহানকে মৃত ঘোষণা করেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর অভিযুক্ত ফাহিমকে ধরতে পুলিশ শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। পরে রাত একটার দিকে সদরের বৌলাই এলাকা থেকে ফাহিমকে আটক করা হয়। থানাহাজতে অভিযুক্ত ফহিমকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।