‘যদি ১০টা মার্ডারও করা লাগে, তা–ই করবেন’

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউপির নৌকার প্রার্থী আবদুল আউয়ালের ছেলে মিজানুর রহমান খান এই হুমকি দেন।

‘মাইর খেয়ে আসা যাবে না, মাইর দিয়ে আসতে হবে। তার জন্য যদি ১০টা মার্ডারও করা লাগে, তা–ই করবেন। আমি বাকিটা দেখব ইনশা আল্লাহ।’ কথাগুলো কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুল আউয়ালের ছেলে মিজানুর রহমান খানের।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জোয়াগ ইউপির পাঁচপুকুরিয়া গ্রামে এক উঠান বৈঠকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মিজানুর রহমান এসব কথা বলেন। তাঁর এমন হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

৫ জানুয়ারি জোয়াগ ইউপিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছি, যদি আমার লোকদের এক ফোঁটা রক্ত ঝরে, আপনি ১০ ফোঁটা রক্ত নিয়ে আসবেন। বাকিটা আমি দেখব ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক চুল পরিমাণও ছাড় দিব না। মিজান কী জিনিস, এখনো জোয়াগের অনেক মানুষ জানে না। জানা উচিত, যখন নমিনেশন নিয়ে আসছি, তখন থেকেই জানা উচিত।’

বৈঠকে মিজানুর রহমান খানের বাবা নৌকার প্রার্থী আবদুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৈঠকে আমিও ছিলাম। তবে কখন মিজানুর এই কথা বলেছে, শুনতে পাই নাই।’ হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেওয়া ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মিজানুর আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই উল্লেখ করে জোয়াগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম সওদাগর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শান্তির দল। এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া আমি কিছু বলতে চাই না।’

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখিনি। এমন বক্তব্য কেউ দিয়ে থাকলে আইন অমান্য ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’