যমুনা সার কারখানায় ছাঁটাই হওয়া ৬১ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবি
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের (জেএফসিএল) ৬১ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বাকি শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেছেন। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক যোগ দেন। পরে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনায় ওই শ্রমিকদের পুনরায় কাজে যোগদানের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দিতে এ কারখানায় ৪২৫ জন স্থায়ী শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫০ জন কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে (অস্থায়ী) ৬১ শ্রমিক কাজ করে আসছিলেন। ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নির্দেশে এই ৬১ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। ছাঁটাই হওয়া এই শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দুদিন ধরে কারখানায় বিক্ষোভ-সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। আজ যমুনা সার কারখানার প্রশাসনিক ভবনের সামনে কাজ বন্ধ রেখে পাঁচ শতাধিক শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মী বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের দরজার সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করায় প্রশাসনিক ভবনে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সব কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নির্দেশে এই ৬১ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়
এ সময় বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন তারাকান্দি ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক, কারখানার শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদার সাখায়াতুল আলম, স্থানীয় বাসিন্দা কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মো. রাসেল, শ্রমিক রইচ উদ্দিন প্রমুখ।
পরে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুদীপ মজুমদার শ্রমিকদের ঠিকাদার সাখায়াতুল আলমের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। এমডি কারখানার ঠিকাদারকে শ্রমিকদের ছাঁটাই বাতিল করে যোগদানের বিষয়ে আশ্বাস দিলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শ্রমিকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। সাখায়াতুল আলম আলোচনায় হওয়া সিদ্ধান্ত প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক রইচ উদ্দিন বলেন, ‘১ সেপ্টেম্বর কারখানার প্রশাসন বিভাগ থেকে আমাদের ৬১ শ্রমিককে কাজে আসতে না করে দেন। এরপর থেকে কাজ না থাকায় আমরা চিন্তায় আছি। আমরা দুদিন ধরে কারখানায় আবার কাজে যোগদানের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছি। কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শেষে আজ প্রশাসনিক ভবন অবরোধ কর্মসূচিতে যাই। আমাদের যোগদান করতে না দেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
কারখানার এমডি সুদীপ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিসিআইসির নির্দেশে ৬১ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। দুদিন ধরে কারখানায় শ্রমিকেরা আন্দোলন করছেন। শ্রমিকেরা আজ কাজ বন্ধ রেখে প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন। আমরা আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। পরে যোগদানের আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকেরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।’