যাত্রী নামিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না গাড়িচালক রাজুর

প্রতীকী ছবি

রাজুর বাড়ি মাগুরায়। তাঁর মৃতদেহ পড়ে রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে। তাঁর নাম-পরিচয় কিছুই জানা সম্ভব হচ্ছিল না। কী মনে করে পুলিশ তাঁর প্রাইভেটকারের ভেতরে অনুসন্ধান চালায়। কাকতালীয়ভাবে ভেতরে একটুকরো কাগজ পাওয়া যায়। তাতে শুধু একটা ফোন নম্বর লেখা। সেই নম্বরে ফোন করলে মাগুরা থেকে হায়দার আলী নামের এক ব্যক্তি ফোনটি ধরেন। কথা বলে পুলিশ জানতে পারে হায়দার আলী রাজুর ভাই।

রাজশাহীতে ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের নামিয়ে দিতে এসেছিলেন রাজু। যাত্রী নামিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। আজ বুধবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষে রাজু গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে জানা যায়, তিনি মারা গেছেন।

রাজশাহীর পুঠিয়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটি ঢাকা থেকে ঈদের যাত্রী নিয়ে রাজশাহীর দিকে আসছিল। পুঠিয়ার ঝলমলিয়া বাজারের পূর্ব পাশে রাজুর প্রাইভেট কারের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ হয়। এতে রাজু গুরুতর আহত হন। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির ছয়জন যাত্রীও আহত হন। লুৎফর রহমান তাঁদের পরিচয় বলতে পারেননি। তবে রাজুর পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা এলে রাজুর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে ঈদে ঘরমুখী মানুষ প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাড়ি ফিরছেন। যাত্রীরা বাস কাউন্টারে আসছেন। কাউন্টারের লোকজনই যাত্রী ডেকে প্রাইভেট কার ঠিক করে দিচ্ছেন। এবার ঈদে এভাবেই মানুষ স্বজনদের কাছে ফেরার চেষ্টা করছেন।