যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মারধরে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মারধরের শিকার পৌর ছাত্রদলের এক নেতা দৌড়ে পালাতে গিয়ে সড়কের ওপর পড়ে মারা গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সাতজনকে সিসিটিভির ক্যামেরা ফুটেজ দেখে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটায় পাঁচবিবি থানার পাশে পৌর পার্কের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. ফারুক হোসেন (২৫)। তিনি পাঁচবিবি পৌর শহরের দানেজপুর মহল্লার শহিদুল ইসলামের ছেলে। ফারুক হোসেন পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মাহমুদ হাসান (২৭), মো. আরিফুল ইসলাম (২৭), মোজাহিদুল ইসলাম (২৮) ও আনিসুর রহমান (৫০। তাঁদের মধ্যে মাহমুদ হাসান পাঁচবিবি মহীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, ‘মৃত্যুর আগে ফারুক হোসেন মারপিটের শিকার হয়েছিলেন। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেছি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
রাত একটার দিকে চারটি মোটরসাইকেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পৌর পার্কে আসেন। তাঁরা সেখানে থাকা ফারুক হোসেনসহ অন্যদের ‘মামলা করতে থানায় এসেছ?’ বলেই মারপিট শুরু করেন।
পুলিশ, বিএনপির নেতা-কর্মী ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় পাঁচবিবি রেলস্টেশন সড়কের স্বর্ণপট্টিতে পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা চলছিল। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম দলীয় কার্যালয়সংলগ্ন বারান্দায় তাঁর মোটরসাইকেলটি রাখেন। বিএনপির ওই কার্যালয়ের পাশেই যুবলীগ নেতা শিপন হোসেনের কার্যালয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের মোটরসাইকেল বারান্দায় রাখা নিয়ে শিপন হোসেন ক্ষিপ্ত হন। শিপন হোসেন তাঁর দলবল নিয়ে বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কয়েকজন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বারান্দায় রাখা মোটরসাইকেলটি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেন।
এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কয়েকজন দলীয় নেতা-কর্মীকে নিয়ে রাতে মামলা করতে থানায় যান। তাঁদের সঙ্গে পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেনও থানায় গিয়েছিলেন। এরপর তিনি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে থানার পাশেই পৌর পার্কের ফটকে অবস্থান করছিলেন। রাত একটার দিকে চারটি মোটরসাইকেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা পৌর পার্কে আসেন। তাঁরা সেখানে থাকা ফারুক হোসেনসহ অন্যদের ‘মামলা করতে থানায় এসেছ?’ বলেই মারপিট শুরু করেন। এ সময় মারপিটের শিকার হয়ে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন দৌড়ে পালাতে গিয়ে সড়কের ওপর পড়ে যান। দ্রুত পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ছাত্রদল নেতা ফারুক হোসেনের মামা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তাঁরা আমার ভাগনের তলপেটে লাথি মারেন। এতে আমার ভাগনে সড়কে লুটিয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা আমার ভাগনেকে মৃত ঘোষণা করেন। যাঁরা আমার ভাগনেকে মারপিট করেছে, তাঁরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জেনেছি।’
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাফসানজানি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত সোয়া একটার দিকে ফারুক হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়। ফারুক হোসেনকে আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’
পাঁচবিবি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে মিন্নুর দাবি করেন, শিপন যুবলীগের কোনো পদে নেই। এ ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নন। ফারুক হোসেন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। থানার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ দেখলেই সেটি স্পষ্ট হবে।