যৌতুকের দাবিতে তরুণীকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ
নাটোরের গুরুদাসপুরে যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তাঁর শাশুড়ির বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের বিলহরিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত গৃহবধূর নাম সুবর্ণা খাতুন (১৮)। তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দলই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে গুরুদাসপুরের বিলহরিবাড়ি গ্রামের সাগর আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ঘটনার পর থেকে সাগর আলী ও তাঁর মা সেলিনা বেগম পলাতক।
স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোজাম্মল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিয়ের সময় এক লাখ টাকা যৌতুকসহ সংসার সাজানোর বিভিন্ন জিনিস দেওয়া হয়েছিল সাগরকে। সংসারের চাহিদা মেটাতে আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল সুবর্ণাকে। কিন্তু পরিবারের অবস্থা বিবেচনায় সেই দাবি মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না সুবর্ণার গরিব বাবার পক্ষে। এ নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সয়ে সংসার করছিলেন তিনি। সর্বশেষ যৌতুকের দাবিতে আজ সকালে স্বামী সাগর আলী ও শাশুড়ি সেলিনা বেগম নির্যাতনের একপর্যায়ে সুবর্ণাকে গলা টিপে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিয়ের সময় এক লাখ টাকা যৌতুকসহ সংসার সাজানোর বিভিন্ন জিনিস দেওয়া হয়েছিল সাগরকে। সংসারের চাহিদা মেটাতে আরও টাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল সুবর্ণাকে।
সুবর্ণার বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘যৌতুকের টাকার চাপ আর নির্যাতন সইতে না পেরে প্রায় মাসখানেক আগে আমার বাড়ি ফিরে আসে মেয়ে। স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে ফিরিয়ে নিতে এলে মেয়ে যেতে চায়নি। মেয়েকে অনেক বুঝিয়ে পাঠাই। কিন্তু স্বামীর ঘরে ফিরেই লাশ হলো সে।’ হাফিজুর রহমান মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রাজ্জাক ঘটনাস্থল থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, নিহত গৃহবধূ সুবর্ণার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তা ছাড়া তাঁর ডান কাঁধ দিয়ে রক্ত ঝরছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনা নিহত গৃহবধূর বাবা হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার বিকেলে গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সাগর আলী ও তাঁর মা সেলিনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।