রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিসের ১৮টি যন্ত্রই সচল
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি ডায়ালাইসিসের ১৮টি যন্ত্রই সচল করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে টেকনিশিয়ানরা ত্রুটি দূর করে যন্ত্রগুলো সচল করে তোলেন। ডায়ালাইসিস যন্ত্রে বিশেষ পানি সরবরাহের সঙ্গে কেমিক্যাল মেশানো ফ্লুইডের মধ্যে ত্রুটি হওয়ায় সাময়িকভাবে যন্ত্রগুলো বিকল হয়ে পড়ে বলে নেফ্রোলজি বিভাগ জানিয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ১৩টি যন্ত্র একযোগে হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে টেকনিশিয়ানরা বিকেল পর্যন্ত কাজ করে সাতটি যন্ত্র সচল করেন। পরে ১৮টির মধ্যে ১২টি যন্ত্র সচল করে বিকেল থেকে অপেক্ষমাণ রোগীদের মধ্যরাত পর্যন্ত ডায়ালাইসিস করা হয়।
নেফ্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার মধ্যে সরকারিভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করানো হয় বলে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন ৩২ থেকে ৩৫ জন নির্ধারিত প্যাকেজ নেওয়া কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিস করা হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন আরও ১০-১৫ জন সাধারণ রোগী সিরিয়ালে থাকেন।
১৮টি যন্ত্রই সচল হয়েছে নিশ্চিত করে নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান মোবাশ্বের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যন্ত্র বিকল হওয়ার পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা চালায়। শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ার পরও সকাল থেকে নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও টেকনিশিয়ানরা যন্ত্রগুলো খুলে পরিষ্কার করেন। পরিষ্কারের পরে মনে হয়েছে, যন্ত্রের মধ্যে তেমন ত্রুটি ছিল না। তবে এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য বিশেষ পানি ব্যবহার করা হয়। সেই পানির সঙ্গে একধরনের তরল কেমিক্যাল ‘ফ্লুইড’ মেশানো হয়। পানি ও ফ্লুইডের মিশ্রণ ঠিকমতো না হওয়ায় যন্ত্রগুলো একসঙ্গে বিকল হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, শনিবার থেকে পুরোদমে ১৮টি যন্ত্রে রোগীদের ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১০ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি রোগীদের রোগ নির্ণয়ে ১০টি ডায়ালাইসিস যন্ত্র বসায়। বাকি আটটি ২০১৬ সালের। এসব যন্ত্রের ওয়ারেন্টির সময়সীমা তিন বছর অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। এখন মেরামত করে চলছে রোগীদের ডায়ালাইসিস।
হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয়ভাবে নিজেদের চেষ্টায় যন্ত্রগুলো ঠিক করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান আনা হবে। তাঁরা এসে এসব যন্ত্র আবার দেখবেন।