পুরোনো বই কেনাবেচার জন্য বলতে গেলে সারা দেশেই পরিচিত রাজধানী ঢাকার নীলক্ষেত এলাকা। স্কুল–কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি লেখকদের বই মেলে এখানে। দর–কষাকষি করলে দামটাও থাকে হাতের নাগালে।
কম দামে বই কেনার জন্য রংপুর নগরের শহীদ জররেজ মার্কেটও স্থানীয় লোকজনের কাছে বেশ জনপ্রিয়। সিটি করপোরেশন ভবনের সামনে ছোট ছোট দোকানে থরে থরে বই সাজানো। নতুন মলাট বা নতুন বইয়ের যে ঘ্রাণ তা না থাকলেও এই মার্কেটে মেলে প্রয়োজনীয় সব বই। নতুন কিনতে গেলে যেগুলোর দাম অনেক বেশি পড়ে, সেগুলো কম দামেই কিনতে পারেন ক্রেতারা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে এই মার্কেট বেশ নির্ভরযোগ্য।
জররেজ মার্কেটে ১৯৯১ সালে কম দামি বইয়ের ব্যবসা শুরু হয়। বর্তমানে সেখানে বইয়ের ১৭টি দোকান আছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এই ব্যবসায় প্রথমে তাঁদের লজ্জা লাগত। কিন্তু কম দামে শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া একটা মহৎ কাজ। ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকলে একসময় বন্ধের জন্য নতুন বইয়ের দোকানিরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের চাপে তাঁরা বেশি দূর এগোতে পারেননি।
‘কম দামি বই মেলা’ নামের দোকানের মালিক দেলোয়ার হোসেন ২০ বছর ধরে এই ব্যবসা আছেন। তিনি জানান, ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরোনো বই কেনেন। পরে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো কিনে নেওয়া হয়। দেখা যায়, যে বিক্রেতা দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বই বিক্রি করেছেন, তিনিই হয়তো প্রয়োজনীয় পুরোনো বই কিনতে দোকানে আসছেন।
সম্প্রতি জররেজ মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, নানা শ্রেণি–পেশার মানুষ দোকানে প্রয়োজনীয় বই খুঁজছেন। কেউ কেউ কাঙ্ক্ষিত বই খুঁজে পাওয়ার পর পাতা ঠিক আছে কি না, তা উল্টেপাল্টে দেখছেন। তাঁদের মধ্যে চাকরিপ্রত্যাশীরাও আছেন।
নার্সিংয়ে পড়া এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় হাতে বেশি টাকা থাকে না। কিন্তু বই
কেনা দরকার। তখনই এই পুরোনো বইয়ের মার্কেটে ছুটে আসেন। টাকাও সাশ্রয় হয়, প্রয়োজনও মেটে।