রাজশাহীতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান মাতালেন সুকুমার বাউল
‘বলব না গো আর কোনো দিন ভালোবাস তুমি মোরে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জনপ্রিয় এই গানের শিল্পী সুকুমার বাউল রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নববর্ষের অনুষ্ঠানে দর্শকদের মাতিয়েছেন। তাঁর পরিবেশনায় বাউলগানই যেন হয়ে ওঠে বর্ষবরণের অনুষঙ্গ। আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঙ্গল শোভাযাত্রার পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এর আগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী নগরের আলুপট্টি পদ্মাপাড়ের বটতলায় ‘নব আনন্দে জাগো আজি নবকিরণে’ গানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এরপর বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এই জোট ছাড়াও রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি ও রাজশাহী কলেজ নগরে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। পরে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাতান সুকুমার বাউল। সবকিছুর মধ্যেই ছিল এবারের প্রতিপাদ্য ‘তুমি নির্মল কর, মঙ্গল করে, মলিন মর্ম মুছায়ে।’ ব্যতিক্রম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এবার মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেনি।
আলুপট্টি পদ্মাপাড়ের বটতলায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে ভোর হলো, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোট, রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদ, শতদল নৃত্যগোষ্ঠী, খেলাঘর ও পঞ্চম সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করে। এরপর তারা মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে নগরের ভুবনমোহন পার্কে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ করে। শোভাযাত্রায় তারা রঙিন পোশাকে ঢাকঢোল বাজিয়ে নেচে–গেয়ে উৎসবের আমেজ তৈরি করে।
বর্ষবরণ উপলক্ষে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সকালে একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে শিশুদের কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রায় আড়ই শ শিশু অংশ নেয়। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে মূল আকর্ষণ ছিলেন শিল্পী সুকুমার বাউল। তিনি একের পর এক গান গেয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। এই অনুষ্ঠানে আরও সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী সরকার আমিরুল ইসলাম ও শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় প্রশাসনের স্থানীয় সরকার পরিচালক মো. এনামুল হক, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী। এ ছাড়া বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধান অতিথি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ বলেন, করোনা মহামারির কারণে দুই বছর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার মাধ্যমে এবারের বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন একটু ভিন্নমাত্রার। নতুন বছরে সবার জীবনে কল্যাণ হোক। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সবার জন্য শান্তির বার্তা বয়ে আনুক, আজকের দিনে এই হোক সবার প্রত্যাশা।
রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসের রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর থেকে নববর্ষকে স্বাগত জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. আবদুল খালেক। এরপর ছিল বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, বেলুন, চালুন-কুলা হাতে শত শত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ শোভাযাত্রাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। শোভাযাত্রা শেষে শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান ভবনের ১০১ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি ও বিবর্তন’ শীর্ষক আলোচনা সভা।
পয়লা বৈশাখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেনি। অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আলী জানান, তাঁরা এবার হালখাতার আয়োজন করেছেন।