রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন মিনু-বুলবুল-শফিকুলের
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী শফিকুল হক মিলন।
বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি শেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করা হয়।
গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আসামি হন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং ওই তিন নেতা। রুহুল কুদ্দুস তালুকদার এখনো জামিনের আবেদন করেননি।
ওই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকিসহ নানা অভিযোগে গত ১৬ মার্চ রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এ (আমলি আদালত বোয়ালিয়া) মামলাটি করা হয়। মামলার বাদী রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই সমাবেশে বিএনপির চার নেতা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। মিজানুর রহমান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘মনে নাই পঁচাত্তর সাল?’ এই ঘোষণার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। কিছু নেতা-কর্মী সমাবেশের বক্তব্য ফেসবুকে সরাসরি প্রচার করেন। সমাবেশে অন্য নেতারাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ান। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেন। এর মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তা না হলে মামলা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ৭২ ঘণ্টা পর তিনি গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমা না চাওয়ায় আওয়ামী লীগ মামলার সিদ্ধান্ত নেয়।
আসামিদের পক্ষে বুধবার ঢাকায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহমুদুল আরেফিন স্বপন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী।
আগাম জামিন পাওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, এই মামলা দিয়ে তাঁদের সঙ্গে নোংরামি করা করা হয়েছে। তিনিই প্রশ্ন রাখেন, এটা কী রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়ার মতো ঘটনা? এই পরিবেশে কেউ কি রাজনীতি করবেন?