লক্ষ্মীপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মো. লিটন। লিটন কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের উত্তর চরকাদিরা গ্রামের চৌধুরী মাঝির ছেলে ও পেশায় ইটভাটার শ্রমিক। নিহত রুবিনা আক্তার (১৭) একই এলাকার চৌধুরী মাঝির মেয়ে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় মাস আগে ফুফাতো ভাই লিটনের সঙ্গে তাঁর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল বিকেলে কমলনগর থানা-পুলিশ রুবিনার লাশ লিটনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। তখন রুবিনা গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে লিটনের পরিবারের লোকজন প্রচার করেন। পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ওই সময় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।
পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বলা হয়, রুবিনাকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই বছরের ৮ জুলাই কমলনগর থানা-পুলিশের এসআই মো. মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে রুবিনার স্বামী মো. লিটনকে অভিযুক্ত করা হয়। পরদিন তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে লিটন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একই বছরের ৩১ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অনিমেষ মণ্ডল লিটনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর তাঁর গলায় ফাঁস দিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে এটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন লিটন। লিটন দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁকে ফাঁসির আদেশ দেন। মামলায় ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।