আনোয়ারা উচ্চবিদ্যালয়ে শতবর্ষের রঙিন উৎসব

১৯৬৯ ব্যাচের লুৎফর রহমান। এখন তাঁর অবসরজীবন। নাতিকে নিয়ে এসেছেন কৈশোর পেরোনোর সেই স্কুল ক্যাম্পাসে। ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকদের ছবিসংবলিত দেয়াল লিখন থেকে শুরু করে পুরো ক্যম্পাস।
৬৭ ব্যাচের নুরুল আলম এসেই পেয়েছেন তাঁর সহপাঠী মোহাম্মদ শাহজাহানকে। দুই বন্ধু মিলে মেতে ওঠেন আড্ডায়। ফিরে যান স্কুলের সেই দিনগুলোতে।
গতকাল শুক্রবার এ রকম খণ্ড খণ্ড স্মৃতির আড্ডা বসে আনোয়ারা সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে শতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে।
দুপুর ১২টায় পতাকা উত্তোলন আর পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ এগিয়ে যাওয়া ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের সাধারণের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। কারণ কারিগরি দক্ষতা অর্জনকারী দেশগুলো বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের স্মৃতিবিজড়িত এ বিদ্যালয় যুগে যুগে বহু গুণীর জন্ম দিয়েছে যাঁরা দেশ ও জাতির সেবায় কাজ করে চলেছেন।
উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাফর উদ্দিন চৌধুরী।
বিকেলে স্মৃতিচারণ, সাবেক শিক্ষার্থীদের সন্তানদের নিয়ে অনুষ্ঠান ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের অনুষ্ঠান। আজ শনিবার শেষ হবে উৎসব।
বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও শতবর্ষ উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর স্বপ্ন ছিল এ বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমাদের মধ্যে তাঁর অভাব অনুভূত হয় সব সময়।’