শহরের পাশে পরিযায়ী পাখি
শিল্পকারখানা আর মানুষে ভরপুর ব্যস্ত শহরের পাশে জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের কলকাকলিতে মুখর থাকে চারপাশ। গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে পাঁচ-ছয় বছর ধরে প্রতি শীতেই তারা নিয়মিত অতিথি।
দমদমা গ্রামটি শিল্পসমৃদ্ধ গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও শ্রীপুরের মাঝামাঝি অবস্থিত। গতকাল রোববার ভোরে ওই গ্রামের একটি বিশাল বিলজুড়ে ঝাঁক ঝাঁক পাখি দেখা যায়। গ্রামটির বেশির ভাগ জুড়েই ছোট-বড় বেশ কয়েকটি বিল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে মাছ চাষ হয়। পুরো গ্রামেই সবুজের সমারোহ। ধূসর বাদামি রংমিশ্রিত পাখিগুলো পানিতে নামার পর দেখে মনে হচ্ছিল, বিলের ওপর ফুল ফুটেছে। পাখিদের মিষ্টি কলরবে চারপাশ মুখর হয়।
আকরাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি বিলে ১০ বছর ধরে মাছ চাষ করেন। তাঁর ভাষ্য, শিল্পঘন গাজীপুর জেলার ভেতর পরিযায়ী পাখির এমন আনাগোনায় স্থানীয় লোকজন বেশ উচ্ছ্বসিত। এসব পাখির সঙ্গে মানুষজনের একটা মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। শুধু তাঁর বিল নয়, আশপাশের আরও দু-একটি বিলেও পরিযায়ী পাখি নামতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিযায়ী পাখি হিসেবে পরিচিত হলেও তারা যেন গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। বিলের পারের লোকজন তাদের কোনো ধরনের বিরক্তির কারণ হয়নি কখনো। হয়তো এ জন্যই প্রতিবছর পাখির আগমন বাড়ছে। তাঁর ধারণা, কম করে হলেও দৈনিক পাঁচ হাজার পাখি আসে এখানে।
বন বিভাগের পাখিবিদ শিবলী সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, কোথাও পর্যাপ্ত খাবারের সন্ধান পেলে কিংবা পরিবেশ নিরাপদ মনে হলে শহরের পাশে অতিথি পাখি আসে। শীতের শুরুতে আসার পর তাদের সাধারণত মার্চ কিংবা এপ্রিল পর্যন্ত অবস্থান করতে দেখা যায়।