শুকনো মৌসুমে ধুলা বৃষ্টিতে কাদাপানি

শুকনো মৌসুমে ছিল ধুলা। বৃষ্টি পর কাদা। এই চিত্র কাজলার পাড়–ধলপুর সড়কের।  প্রথম আলো
শুকনো মৌসুমে ছিল ধুলা। বৃষ্টি পর কাদা। এই চিত্র কাজলার পাড়–ধলপুর সড়কের। প্রথম আলো

শুকনো মৌসুমে ধুলায় আচ্ছন্ন ছিল সড়ক, আর এক দিনের বৃষ্টিতে এখন থিকথিকে কাদা। ধলপুর, কাজলারপাড়, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা ও দনিয়ার সড়কগুলোর অবস্থা এমনটাই।
গতকাল সকালের বৃষ্টিতে ধলপুরের সুতিখাল পাড়, খালেকুজ্জামান সড়ক, নারকেলবাগান সড়কসহ মিষ্টির গলি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। কাজলার পাড় এলাকায় সব সড়কেই ছিল কাদায় ভরা। বিকেল-সন্ধ্যায় আরেক দফা ঝুম বৃষ্টিতে অধিকাংশ সড়কই পানিতে ডুবে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাদাপানির কারণে বিপাকে পড়ে পথচারীরা। পোস্তগোলা সড়কের অবস্থা ছিল নাজুক। কাদা জমে যাওয়ায় সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারছিলেন না পথচারীরা। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে ডেমরার দিকের সড়কের দশাও ছিল একই।

ডেমরাগামী এক ব্যক্তি বলেন, কাদা পানির কারণে কাছের যাত্রীরাও হেঁটে যেতে পারছেন না। তাই পথচারীদের রিকশা, লেগুনা কিংবা বাসে উঠতে হচ্ছে।
গতকাল কাজলারপাড়ের বাসিন্দা মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘শীত মৌসুমে ধুলার কারণে মুখে মাস্ক পড়তাম আর নাক চেপে হাঁটতাম। আর এখন কাদাপানি থেকে বাঁচার জন্য পা টিপে টিপে হাঁটতে হচ্ছে। কারণ, একটু বেখেয়াল হয়ে জোরে হাঁটলেই প্যান্টে কাদা লেগে যায়। পরিষ্কার জামা পরে বের হলে তা নোংরা হতে খুব বেশি সময় লাগে না।’

ধলপুরের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে রাস্তাজুড়ে জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকে। আর কাদার যন্ত্রণা তো আছেই। এখনই এ অবস্থা, সামনের বর্ষা মৌসুমে কী যে হবে!’
গতকাল বুধবার ছিল এসএসসির জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা। সড়কের কাদাপানিতে নাস্তানাবুদ হয়েছে অনেক পরীক্ষার্থী। যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলে পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল শিক্ষার্থী সামির হোসেনের। তার মা রুনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বাসা ডেমরা। এত দিন ধুলার মধ্যে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে হতো। আর আজ থিকথিকে কাদা। সকালে ছেলেকে নিয়ে কেন্দ্রে আসতে অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। বাসা থেকে বের হয়েই জমে থাকা নোংরা পানি পাড়াতে হয়েছে।’
কাদাপানির কারণে সড়কজুড়ে রিকশার  আধিপত্য ছিল বেশ। সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী এলাকায় যাত্রীসহ রিকশার চাপ বেশি দেখা যায়। তবে যাত্রীরা বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেন। সায়েদাবাদ থেকে মতিঝিল যাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘অন্য সময় সায়েদাবাদ  থেকে রিকশায় মতিঝিল ৪০ থেকে ৫০ টাকায় যেতে পারি। তবে আজ ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে যেতে চাচ্ছে না।’