কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর
শ্মশান দখলচেষ্টার অভিযোগ
পরিস্থিতি দেখতে ও বুঝতে গতকাল বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা কুলিয়ারচর যান।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ঘোষপাড়া শ্মশানে হিন্দুদের মৃতদেহ সৎকার করা হয় ৪০০ বছর ধরে। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ, প্রাচীন এ শ্মশানটি এখন দখলের চেষ্টা চলছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছির মিয়া ওই দখলচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইয়াছির উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্যও। এদিকে শ্মশান দখলচেষ্টার খবর শুনে সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতে ও বুঝতে গতকাল শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা কুলিয়ারচর যান। সেখানে তাঁরা শ্মশান লাগোয়া স্থানে সভা করেন। সভা থেকে ১০ দিনের মধ্যে শ্মশান পুরোপুরি দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়। ব্যতিক্রম হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি জিতেন্দ্র লাল ভৌমিক ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাস গুপ্ত প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার ও ঢাকা মহানগর পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মনিন্দ্র কুমার নাথ। তাঁরা হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সভা করেন। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ইয়াছির মিয়া, কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যেতিশ্বর পাল, মেয়র সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসিন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা উপস্থিত ছিলেন। তবে সভায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। পরে তিনি সভাস্থল ছেড়ে চলে যান।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের দাবির বিষয়ে ইয়াছির মিয়া বলেন, ‘ আমি দ্রুত এলাকার লোকজন নিয়ে সভা করব। সেখানে দাবির বিষয়গুলো নিয়ে কথা হবে, যা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য সেটাই করা হবে।’ তবে শ্মশান দখলের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করছেন ইয়াছির মিয়া। তাঁর মতে, ইস্যুটি শুরু থেকেই মীমাংসিত ছিল। তবে এখন যা হচ্ছে এর পুরো দায়ভার চাপান নিজ দলের দলীয় প্রতিপক্ষের ঘাড়ে।
দেয়াল ভাঙার বিষয়ে বলেন, কাজ করতে গিয়ে ভেঙে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আবার নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
২৫ মে রাতে শ্মশানের প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। পরে এ ঘটনায় ২৬ মে চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা হয়। তবে আসামির তালিকায় চেয়ারম্যানের নাম নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় বাবুল মিয়া, সুমন মিয়া, রানা মিয়া, সুমন মিয়া। অভিযুক্তরা চেয়ারম্যানের অনুগত হিসেবে পরিচিত।
প্রতিপক্ষের ইঙ্গিতে পরিবেশ ঘোলাটে হচ্ছে—ইয়াছির মিয়ার এমন অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন জিসান বলেন, এটা তাঁর ভুল ধারণা ও মিথ্যা অভিযোগ।