সখীপুরে ১৮ বাড়িতে চুরি, রাতে টহল দেবে পুলিশ
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নে গত আট দিনে ১৮ বাড়িতে চুরি হয়েছে। এসব চুরির ঘটনায় কালিয়া ইউনিয়নে স্থানীয়দের মধ্যে চোর-আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের জিন্নত আলী ও মজিবর খলিফার বাড়িতে চুরি হয়েছে।
আজ বুধবার রাত থেকে ওই ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ। পুলিশও আজ থেকেই পৃথক টহলের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে সাইদুল হক ভুইঁয়া আজ বিকেলে প্রথম আলোর কাছে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কালিয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর চারিবাইদা এলাকায় সিঁধ কেটে চার বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে দামিয়াপাড়া ও বানিয়ারসিট গ্রামের পাঁচ বাড়িতে চোরেরা চেতনানাশক স্প্রে করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোন নিয়ে যায়। দামিয়াপাড়া গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী আবদুল আলীম বলেন, ‘আমাদের ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে স্ত্রী, চার মেয়ে, ছেলের বউ, শাশুড়িসহ পরিবারের সবার প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩১ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর রাতেও বানিয়ারসিট গ্রামে আরও দুই বাড়িতে চুরি হয়।’
১১ সেপ্টেম্বর রাতে একই ইউনিয়নের দামিয়াপাড়া গ্রামের আবদুল হাকিম সিকদার, আকবর সিকদার ও শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে চুরি হয়। তিন বাড়িতেই টিনের বেড়া কেটে চুরির ঘটনা ঘটে।
গত সোমবার রাতে ইউনিয়নের বানিয়ারসিট গ্রামের উত্তরপাড়ার চান মাহমুদ মিয়া এবং একই গ্রামের কোনাপাড়ার আবুল কালাম মিয়ার বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি হয়। চোরেরা চান মাহমুদের বাড়ি থেকে ১৭ হাজার টাকা ও নতুন দুটি স্মার্টফোন এবং আবুল কালামের বাড়ি থেকে মাত্র তিন হাজার টাকা নিয়ে যায়।
আবুল কালাম বলেন, ‘বাড়িতে চুরি যাওয়ার বিষয়টি কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। থানায় জানিয়ে লাভ নেই, তাই জানাইনি।’
এ বিষয়ে দামিয়া পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিউল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো চোর ধরা পড়েনি। আমাদের এলাকার লোকজন খুবই আতঙ্কিত। সারা দিন পরিশ্রম করে কেউ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না।’
গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আড়াইপাড়া গ্রামের জিন্নত আলীর বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি হয়।
কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, গত আট দিনে ইউনিয়নের ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬ বাড়িতে চুরি যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের নেতৃত্বে গ্রামপুলিশ ও স্থানীয়দের নিয়ে কমিটি করে প্রতিটি গ্রামে রাতে পাহারার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সখীপুর থানার ওসি সাইদুল হক ভুইঁয়া প্রথম আলোকে বলেন, আজ রাত থেকে ওই ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের বিশেষ টহল মোতায়েন থাকবে।