‘সবাই ভুলে যায়, কিন্তু প্রথম আলো ভুলে না’

১৫৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৪৫ জন বৃদ্ধের মধ্যে চাদর বিতরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে মদনপুর আলোর পাঠশালার মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

ভোরের কুয়াশা তখনো কাটেনি। ভোলা শহরের মেঘনার তীরে নাছিরমাঝি খেয়াঘাটে ভোলা বন্ধুসভার বন্ধুরা সবাই ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন। সকাল আটটার দিকে উলের চাদরবোঝাই ট্রলার নিয়ে মদনপুর চরের উদ্দেশে যাত্রা করেন বন্ধুরা।

মদনপুর ভোলার দৌলতখান উপজেলার একটি জলবেষ্টিত ইউনিয়ন। দুর্গম এই চরে গ্রীষ্মের দিনে যেমন গরম পড়ে, শীতকালে তেমনই জেঁকে বসে শীত। চরের অসহায় মানুষকে শীতের কষ্ট থেকে কিছুটা মুক্তি দিতে ৩০০ জনের কাছে প্রথম আলো ট্রাস্টের উপহার উলের চাদর পৌঁছে দিয়েছেন ভোলা বন্ধুসভার সদস্যরা।

এ চরে আছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ‘মদনপুর আলোর পাঠশালা’। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় মদনপুর আলোর পাঠশালার ১৫৫ জন শিক্ষার্থী ও ১৪৫ জন বৃদ্ধের মধ্যে চাদর বিতরণ করা হয়েছে।

সকাল ১০টার মধ্যেই মদনপুর আলোর পাঠশালার মাঠে স্লিপ নিয়ে হাজির হন শীতার্ত শতাধিক মানুষ। এরপর তাঁদের নির্ধারিত সারিতে দাঁড় করিয়ে চাদর পরিয়ে দেন বন্ধুসভার বন্ধুরা।

৬৫ বছরের মোফাজ্জল হক শিকদারকে চাদর পরিয়ে দেন বন্ধুসভার সহসভাপতি এম শরিফ আহমেদ। নতুন চাদর পেয়ে মোফাজ্জল বলেন, ‘সবাই ভুলে যায়, কিন্তু প্রথম আলো ভুলে না। প্রতিবার শীতে, করোনাকালে, ঈদে চরের মানুষকে কিছু না কিছু দেয়। এইবার আমিও পাইছি।’

প্রথম আলো ট্রাস্টের উপহার পেয়ে বৃদ্ধ আব্দুল খালেক বলেন, ‘খর-নাড়ার বেড়ার ফাঁক দিয়া বাতাস ডোহে (ঢোকে), খাতার (কাঁথা) মাইধ্যে দিয়াও বাতাস ডোহে। চাদর দিয়া কান-গলা বান্দা থাকলে আরাম অইব।’

এ সময় বন্ধুসভার সহসভাপতি মো. হেলালউদ্দিন মাস্টার, সহসভাপতি এম শরিফ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আজিজ, মদনপুর আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন, ভোলা বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন, মদনপুর আলোর পাঠশালা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য আবদুল খালেক, গ্রাম পুলিশ আবদুল মান্নান, মো. নাছির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে।
হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল
হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪
ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।
অথবা
বিকাশ মার্চেন্ট নম্বর: ০১৭১৩-০৬৭৫৭৬