‘সরকার শিক্ষার্থীদের অনুভূতি না বুঝে ষড়যন্ত্র খুঁজতে গিয়ে ভুল করছে’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেটওয়ার্ক অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে
ছবি: শহীদুল ইসলাম

সরকার চাইলে এক ঘণ্টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের (শাবিপ্রবি) দাবির ব্যাপারে সমাধান করা যেত বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা না করে আন্দোলনে ষড়যন্ত্র খুঁজে ভুল করছে।’ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকের সামনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকেরা এমন মন্তব্য করেন।

শাবিপ্রবিতে ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ও শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির সমর্থনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সমন্বয়ক আবদুল মজিদের সঞ্চালনায় অধ্যাপক সৌভিক রেজা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গাছের সঙ্গে, কাঠবিড়ালির সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রশাসনের সঙ্গে হয় না কেন? কারণ, তাঁরা, ভিসিরা উড়ে এসে জুড়ে বসেন। প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও কেন শাবিপ্রবি থেকে নিজস্ব ভিসি নির্বাচিত করা যায় না? এই জায়গা ভাঙতে হবে। আমরা মুক্তি চেয়েছিলাম বলেই মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এখন মুক্তি নেই বলেই এমন চলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রশ্ন, ফরিদের থাকা না থাকার প্রশ্ন না। এভাবে চলতে থাকলে এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আর আন্দোলন করবে না, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকদের জ্যান্ত কবর দেবে।’

সংহতি জানিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, শুভচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি যেন নির্বাসনে চলে গেছে। বলা হচ্ছে, তৃতীয় শক্তি শাবিপ্রবির পরিস্থিতি জটিল করেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই তৃতীয় শক্তি কি ছাত্রলীগ? তৃতীয় শক্তি কি পুলিশ? যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা না করলে সাধারণ একটা দাবি এত দূর আসত না?’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা আন্দোলনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা এখন সব মানুষের সমর্থন আদায় করেছে। সবাই এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকারের বিপক্ষে গেছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিক্ষার্থীদের অনুভূতি বুঝতে না পারার ব্যর্থতা। সরকার এখানে ষড়যন্ত্র, আন্দোলনের ফান্ডিং খুঁজতে গিয়ে ভুল করছে। তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে ছাত্রদের সাধারণ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। এখন যদি সমাধান না হয়, তাহলে আবার সে রকম কিছু না হলে আমি অবাক হব না।’
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শাবিপ্রবির ভিসির পক্ষে অন্য ভিসিরা বিবৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তাঁরা আসলে একটা সিন্ডিকেট। তাঁরা যথাযথ উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হননি। তাঁরা সবাই মিলে একজন ভিসির পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। এখন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি বলে, আমরা ওই ভিসির বিপক্ষে?’

সরকার চাইলে এক ঘণ্টায় এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব মন্তব্য করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও শিক্ষার্থীদের একইভাবে নির্যাতিত হতে দেখে কষ্ট লাগে। এসবের অবসান হওয়া উচিত। আমরা শিক্ষার্থীদের মূল অহিংস দাবির কথা কেউ খেয়াল করছি না। সেখানে আমরা তৃতীয় পক্ষ খুঁজছি, ষড়যন্ত্র খুঁজছি। সেখানে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন করছে। যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।’

অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাকিলা খাতুন, রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার, রাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ খান, রাবি শাখা বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর আহ্বায়ক রনজু হাসান বক্তৃতা করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।