সাঁওতালদের বিরোধপূর্ণ জমিতে না করে গাইবান্ধার সাঁকোয়ায় ইপিজেড স্থাপনের দাবি

গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে শহরের ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লোকজন
ছবি: প্রথম আলো

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতালদের বিরোধপূর্ণ জমিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) না করে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের সাঁকোয়া সেতু এলাকায় করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ। আজ শবিবার বেলা ১১টার দিকে শহরের ডিবি রোডের গানাসাস মার্কেটের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি জানান তাঁরা। গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চ ব্যানারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। এ জমিতে উৎপাদিত আখ রংপুর চিনিকলে মাড়াই হতো। কিন্তু ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব জমিতে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে গেলে সাঁওতালদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ৩ সাঁওতাল নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম এলাকায় সাঁওতালদের পৈতৃক জমিতে ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ইপিজেড নির্মাণে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেপজা) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে ইপিজেড নির্মাণ করা হলে সাঁওতালদের বাপ-দাদার জমি থাকবে না। সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে ইপিজেড নির্মাণ যুক্তিযুক্ত নয়। তাই এখানে ইপিজেড নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে সাঁওতালরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এ বাস্তবতায় গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের পলাশবাড়ী উপজেলার সাঁকোয়া সেতু এলাকায় ইপিজেড চান গাইবান্ধাবাসী।

বক্তারা আরও বলেন, গাইবান্ধার তৎকালীন জেলা প্রশাসক কাজী আনোয়ারুল হক সাঁকোয়া সেতু এলাকায় ইপিজেড করার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী মহল তৎকালীন জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব ধামাচাপা দিয়ে সাঁওতালদের বিরোধপূর্ণ জমিতে ইপিজেড করার পাঁয়তারা করছে। অথচ সাঁকোয়া এলাকায় ইপিজেড হলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। কারণ, এখানে ইপিজেড নির্মিত হলে সড়কপথ, রেলপথ, নৌপথ, হেলিপ্যাড ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। এ ছাড়া সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার মানুষসহ আশপাশের জেলার কর্মজীবী মানুষ ইপিজেডে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের সদস্যসচিব ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মারুফ, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির, আদিবাসী-বাঙালী সংহতি পরিষদ সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী, ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্ক্সবাদী) সদস্য মৃণাল কান্তি বর্মণ, মানবাধিকার কর্মী অঞ্জলী রানী, সমাজকর্মী শহিদুল ইসলাম, রোকাউনদ্দৌলা, আশরাফুল আলম ও হাবীব বাদশা, মানবাধিকার নাট্য পরিষদের সদস্য আলম মিয়া, সাঁকোয়া সেতু বাস্তবায়ন মঞ্চের আহ্বায়ক কুশলাশীষ চক্রবর্তী, আইনজীবী মোহাম্মদ আলী প্রামাণিক, ফারুক কবির ও সাঈদ আহমেদ, নারী নেত্রী নাজমা বেগম প্রমুখ।