সাজার মেয়াদ শেষ হলেও জেলের ঘানি টানছেন ছয় ভারতীয়

কারাগার
প্রতীকী ছবি

সাজার মেয়াদ শেষ হলেও ভারতের ৬ নাগরিক কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দী রয়েছেন। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ না থাকায় তাঁরা মুক্তি পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জেলের ঘানি টানছেন।

আদালত ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর অবৈধপথে রৌমারী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয় ভারতীয় নাগরিক জলিল মিয়াকে। তিনি ভারতের ধুবড়ি জেলার মাইনকারচর হাট সিংমারী এলাকার পুরান কানাই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম শেখের ছেলে। পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া অনুপ্রবেশের দায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে। কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক তাঁকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। গত বছরের ৩ জানুয়ারি তাঁর সাজার মেয়াদ শেষ হয়। বর্তমান তিনি অতিরিক্ত ১২ মাস সময় ধরে কারাগারে বন্দী আছেন।

একই অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে সাজাভোগের পর মুক্তি পাননি ভারতের ধুবড়ি জেলার কানাইমারা গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে শাহ আলম শেখ এবং একই গ্রামের আখের জামানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। তাঁরা দুজন সাজার মেয়াদ পেরিয়ে ১৫ মাস কারাগারে বন্দী আছেন।

অনুপ্রবেশকারী এসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচারের মুখোমুখি হন।

গত বছর ১৬ মার্চ রৌমারী সীমান্তে গ্রেপ্তার হন ধুবড়ি জেলার কানাইমারা গ্রামের ছুরুদ আলীর ছেলে নুরুজ্জামান। আদালত তাঁকে ২ মাস ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। অভিযুক্ত আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধও করেন। গত বছর ৩০ মে সাজার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু ১১ মাসেও তিনি মুক্তি পাননি।

গত বছর ২ এপ্রিল রৌমারী সীমান্তে গ্রেপ্তার হন গোলজার হোসেন ও তৈয়ব আলী। তাঁদের দুজনের বাড়ি ভারতের ধুবড়ি জেলার দক্ষিণ শালমারার দ্বীপচর গ্রামে। গোলজার হোসেনের বাবার নাম সমশের আলী এবং তৈয়ব আলীর বাবার নাম আকবর আলী। আদালত দুজনকে ১০ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছর ৯ জানুয়ারি। এরপরও তাঁরা কারাভোগ করছেন।

কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়নি ভারতের ধুবড়ি জেলার সুখচর নিলক্ষীরা পাটুয়া গ্রামের হারেছ আলী বাবুর। তাঁর বাবার নাম অলি জামাল শেখ। গত বছর ১৮ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন হারেছ। আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ায় বিচারক তাঁকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ১ নভেম্বর। তিনি যথাসময় বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, এ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, অনুপ্রবেশকারী এসব ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচারের মুখোমুখি হন। আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। ইতিমধ্যে ৬ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও ভিন্ন দেশের নাগরিক হওয়ায় আসামি হস্তান্তরের জটিলতায় মুক্তি পাননি। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। মুক্তি পাওয়া তাঁদের মানবাধিকার।

কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারের জেলার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিষয়গুলো সময়মতো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে। সে মোতাবেক বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডারকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো ভারতীয় হাইকমিশনের অনুমোদন মেলেনি। তারা তথ্য যাচাইবাছাই করছে। ভারতীয় পক্ষের ক্লিয়ারেন্স পেলে আমরা পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় এই ভারতীয় নাগরিকদের লালমনিরহাট বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে হস্তান্তর করতে পারব।’