সাতটি সেতুই চরম ঝুঁকিপূর্ণ

মঠবাড়িয়া উপজেলার কাচারিবাড়ি সেতুর পাটাতন ভেঙে গেছে
ছবি: প্রথম আলো

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মঠবাড়িয়া-সাপলেজা-নলী খেয়াঘাট সড়কে সাতটি বেইলি সেতুর সব কটিই বেহাল। প্রায় তিন দশক আগে তৈরি করা এসব সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এসব সেতুতে গাড়ির চাকা আটকে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভারী কোনো যানবাহন উঠলে সেতুগুলো কাঁপতে থাকে।

স্থানীয় লোকজন ও গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া-সাপলেজা-নলী খেয়াঘাট সড়কে দিয়ে রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় নগরী খুলনাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল করে। নলী খেয়াঘাট–সংলগ্ন বাবুবাজার থেকে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাস ছাড়ে। ১৬ কিলোমিটার সড়কের সাতটি বেইলি সেতুর কোনোটিই চলাচলের উপযোগী নয়। বাধ্য হয়েই এসব সেতু দিয়ে মালবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহনও চলাচল করে। প্রতিদিন কয়েক শ মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এসব সেতু পারাপার করে।

সড়কটির বেশির ভাগ বেইলি সেতু আশির দশকের শেষ দিকে ও নব্বই দশকে নির্মাণ করা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মঠবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া-সাপলেজা-নলী খেয়াঘাট সড়কে কাচারিবাড়ি সেতু, মোল্লাবাড়ি সেতু, ভাড়ানিখাল সেতু, সাপলেজা গুচ্ছগ্রাম–সংলগ্ন সেতু, চরকগাছিয়া সেতু, দক্ষিণ চরকগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–সংলগ্ন সেতু ও বাবুবাজার–সংলগ্ন নলী খেয়াঘাট সেতু আছে। বেশির ভাগ বেইলি সেতু আশির দশকের শেষ দিকে ও নব্বই দশকে নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, থানা–সংলগ্ন কাচারিবাড়ি সেতুটির স্টিলের পাটাতনের কয়েক জায়গায় ভেঙে ফাঁকা হয়ে গেছে। বেশির পাটাতন নড়বড়ে হয়ে গেছে। নড়বড়ে অবস্থা মোল্লাবাড়ি সেতু, ভাড়ানিখাল সেতু ও বাবুবাজার–সংলগ্ন নলী খেয়াঘাট সেতুর। মোটরসাইকেল নিয়ে পার হওয়ার সময় সেতুগুলো দোল খাচ্ছিল। জরাজীর্ণ অবস্থা সাপলেজা গুচ্ছগ্রাম–সংলগ্ন সেতু, চরকগাছিয়া সেতু ও দক্ষিণ চরকগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–সংলগ্ন সেতুরও। সেতুগুলোর পাটাতন ভেঙে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে।

মঠবাড়িয়া–নলী সড়কে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান সৌরভ খান। সেতুগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, কাচারিবাড়ি সেতুর পাটাতন ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেলের চাকা ছিদ্রের মধ্যে আটকা পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। ভাড়ানি খালের সেতুটি প্রস্থে কম হওয়ায় দুটি ইজিবাইক একসঙ্গে পাশ কাটিয়ে চলতে পারে না। বাকি সেতুগুলো দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় দোলে।

সাপলেজা গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন পাথরঘাটার চরদুয়ানি থেকে মোটরসাইকেলে করে মাছ নিয়ে মঠবাড়িয়া যাই। এ সড়কের প্রতিটি বেইলি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। গাড়ি চলাচল করার সময় সেতুর পাটাতন নড়াচড়া করে। এরপরও এসব সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভারী যান চলাচল করছে। দ্রুত সেতুগুলো মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ইজিবাইকচালক রাজা মিয়া বলেন, কাচারিবাড়ি বেইলি সেতু দিয়ে খুব সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর ভাঙা স্থানে গাড়ির চাকা ঢুকে পড়ে গাড়ি উল্টে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া জোড়াতালি দিয়ে যেসব সেতু যান চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে, সেগুলোও নড়বড়ে। এসব সেতু ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মঠবাড়িয়া কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী কাজী আবু সাঈদ মো. জসিম বলেন, সড়কের সব কটি বেইলি সেতু জরাজীর্ণ। এসব সেতুর স্থানে গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে। এ জন্য দরপত্র আহ্বানের কাজ প্রক্রিয়াধীন।