সিঙ্গাইরের সেই ক্লিনিক সিলগালা, নয়জনের কারাদণ্ড
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা সদরে সিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামের বেসরকারি সেই ক্লিনিক ও রোগনির্ণয় কেন্দ্রটি সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ক্লিনিকের নয়জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ওই ক্লিনিকের নিরাপত্তাকর্মী হামিদুর রহমান ও আবদুল করিমকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ক্লিনিকের মালিক নজরুল ইসলামের স্ত্রী মান্না তানিয়া এবং ক্লিনিকের কর্মী পারভীন আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সুমি আক্তার, শিল্পী আক্তার, আবদুল বাতেন ও মনির হোসেনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাম্মা লাবিবা এ কারাদণ্ড দেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপন দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার ভোরে উপজেলা সদরের শহীদ রফিক সড়কে অবস্থিত সিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সাবিনা আক্তার (২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে উপজেলা সদরের শহীদ রফিক সড়কে অবস্থিত সিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সাবিনা আক্তার (২০) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফারহানা নবীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আজ দুপুর ১২টার দিকে সিঙ্গাইর থানার পুলিশের সহযোগিতায় ওই ক্লিনিকে অভিযান পরিচালন করে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্লিনিকের মালিক নজরুল ইসলাম পালিয়ে যান। নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে তা দেখাতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া তিনতলা ভবনবিশিষ্ট ক্লিনিকটির ছাদে অবৈধভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করতে দেখেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ইউএনও দীপন দেবনাথ বলেন, অনুমোদন না নিয়ে অবৈধভাবে ক্লিনিকটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেবা ও চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া অবৈধভাবে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি করে আসছিলেন ক্লিনিকের কর্মীরা। এসব কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ক্লিনিকটি সিলগালা এবং ওই নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।