সুনামগঞ্জে ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর ও মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সুনামগঞ্জ জেলার মানচিত্র
প্রতীকী ছবি

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় ব্যাংক কর্মকর্তা বিকাশ রঞ্জন সরকারকে (৫৫) মারধর, অবরুদ্ধ করে রাখা ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে শুক্রবার সুনামগঞ্জ পৌর শহরে মানববন্ধন হয়েছে। শহরের আলফাত স্কয়ারে দুপুরে মানববন্ধন করে বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিকাশ রঞ্জন সরকার এলাকায় একজন ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে পরিচিত। যাঁরা তাঁর ওপর হামলা ও মারধর করেছেন, তাঁরা এলাকায় ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর (বিকাশ) বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি অমর চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক রিটন দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সেন্টু রঞ্জন কর, সদস্য অরুণ দাস, শঙ্কর বর্মন, রণধীর সরকার, দিরাই উপজেলা শাখার সভাপতি লিটন সূত্রধর, সাধারণ সম্পাদক মিঠু দে প্রমুখ।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের (ধরমপাশা, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেনের বড় ভাইকে না জানিয়ে জমি বিক্রি করায় গত সোমবার দুপুরে উপজেলার পাইকুরাটি নতুন বাজারে বিকাশ রঞ্জন সরকারকে মারধর করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সাংসদের ভাই মোশারফ হোসেন (৫৮) ও ভাতিজা তানভীর হোসেন (২৪)। মারধরের পর বিকাশ রঞ্জনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মোশারফ হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। বিকাশ রঞ্জন সরকারের বাড়ি পাইকুরাটি গ্রামে। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধরমপাশা উপজেলা সদরে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

মারধরের ঘটনায় বিকাশ রঞ্জন সরকার মঙ্গলবার রাতে ধরমপাশা থানায় সাংসদের ভাই ও ভাতিজার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। বুধবার রাতে সাংসদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত পাইকুরাটি গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু দে (৩২) নামে এক ব্যক্তি থানায় বিকাশ রঞ্জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।

মামলায় পিন্টু দে অভিযোগ করেন, বিকাশ চার মাস আগে পাইকুরাটি নতুন বাজারে চার শতক জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রির দাম ধরে তাঁর কাছে থেকে তিন লাখ টাকা বায়না নিয়েছিলেন। এক মাস পর বাকি টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। ২ মে বাজারে বিকাশকে পেয়ে পিন্টু জমি দলিল করে দেওয়ার কথা বললে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ প্রসঙ্গে বিকাশ রঞ্জন সরকার বলেন, তিনি পিন্টুর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি বা হুমকিও দেননি। তাঁকে মারধর, আটকে রাখা ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ এনে সাংসদের বড় ভাই ও ভাতিজাকে আসামি করে থানায় মামলা করার পরিপ্রেক্ষিতেই পিন্টু এমন মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন।

সাংসদের ভাই মোশারফ হোসেনও তাঁদের বিরুদ্ধে আনা বিকাশের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ‘অন্যের জমি দখল করে সাংসদের হাওর বাংলা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিকাশ রঞ্জন সরকার জানান, এরপর থেকেই সাংসদ ও তাঁর লোকজন ক্ষুব্ধ।

প্রতিবেদনটিতে বিকাশের অভিযোগ ছিল, পাইকুরাটি ইউনিয়নের নওধার গ্রামে বানানো সাংসদের বিলাসবহুল বাড়ি ‘হাওর বাংলা’র ভেতরে আরেক ব্যক্তির জমির সঙ্গে তাঁরও ৩০ শতক জমি আছে। সাংসদ এসব দখল করে নিয়েছেন। এ ছাড়া সাংসদের দুই ভাইয়ের নামে তিনি ২ একর ৬৫ শতক জমি একবার দলিল করে দিয়েও কোনো টাকা পাননি। তখন সাংসদের পরিবারের সঙ্গে বিকাশ রঞ্জন সরকারের ঘনিষ্ঠতা ছিল।

আরও পড়ুন