সুনামগঞ্জে ৯৭টি স্থানে গণটিকা দেওয়া হবে শনিবার

করোনার প্রতীকী টিকা
ছবি: রয়টার্স

সুনামগঞ্জ জেলার ৯৭টি কেন্দ্রে আগামীকাল শনিবার (৭ আগস্ট) গণটিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সুনামগঞ্জে এক দিনে ৫৮ হাজার ২০০ জনকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গণটিকা কার্যক্রমে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন শামস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেছেন, টিকা নিতে আগ্রহীদের জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদ সঙ্গে আনতে হবে। সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। কেন্দ্রে যাঁরা টিকাদান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৮৮টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা আছে জেলায়। এর মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং সুনামগঞ্জ পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে থাকবে নয়টি কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে ৬০০ জনকে। একটি কেন্দ্রে বুথ থাকবে তিনটি। একটি বুথে টিকা দেওয়া হবে ২০০ জনকে।

প্রতিটি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্র হবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মিলে কেন্দ্রের জন্য সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণ করবেন।
ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তালিকা করার জন্য। এটি সমন্বয় করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানেরা। ইউপি সদস্যের করা তালিকা অনুযায়ী টিকা দেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার জানান, গণটিকা কর্মসূচির বিষয়ে তাঁর সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকাদান কেন্দ্র করা হয়েছে।

একই উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বলেন, তার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে তিনটি গ্রাম আছে। এই গ্রামগুলো আবার ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি। তাই টিকাকেন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কেন্দ্র পরিদর্শন করে গেছেন।

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজিব চক্রবর্তী জানান, তাঁর উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। এর মধ্যে ১৩টি ইউনিয়নের ১৩টি কেন্দ্রে শনিবার গণটিকা দেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত বলেন, পৌরসভায় আরও বেশি কেন্দ্র দরকার। অনেক এলাকায় ঘনবসতি আছে। সেখানে কেন্দ্র বেশি হলে সুবিধা। আপাতত নয়টি ওয়ার্ডে নয়টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে কেন্দ্র আরও বাড়ানো হতে পারে।

আর তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী জানান, গণটিকা কর্মসূচি সফল করতে জনপ্রতিনিধি, যুবসমাজ, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতদের কাজে লাগিয়ে বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকা কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।