সেনাসদস্যকে চাপা দিয়ে ২০০ গজ টেনে নিয়ে যায় বাসটি

সেনাসদস্যের দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল
ছবি: প্রথম আলো

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দ্রুতগামী একটি বাসের চাপায় সাহেব আলী (২৮) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি সেনাসদস্যকে চাপা দিয়ে প্রায় ২০০ গজ টেনে নিয়ে যায় মোটরসাইকেলটি।

নিহত সাহেব আলী মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার পোরাইল গ্রামের গফফার মোল্লার ছেলে। তাঁর কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা গেছে, তিনি ঢাকার সাভার সেনানিবাসে কর্মরত। আইডি নম্বর ২২০৬৫৭৩। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ টাকা, দুটি ফোন, পাঁচটি বিভিন্ন পরিচয়পত্র, ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি কার্ড, একটি রেশন কার্ড পাওয়া যায়। তিনি লাল রঙের ১১০ সিসির মোটরসাইকেল (মাগুরা হ-১২-৪৯২৯) চালিয়ে মাগুরা থেকে সাভারে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাবেকুল ইসলাম ও গাড়িচালক মুরাদ খান জানান, বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিড মিল ও গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় একটি বিকট শব্দ হয়। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন, একজন ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে আছেন। তাঁর বাঁ পাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেঁতলে গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলটি প্রায় ২০০ গজ দূরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় বাসটি।

সড়কের ধারে ধান কাটা শ্রমিকদের বরাত দিয়ে সাবেকুল ইসলাম ও মুরাদ খান জানান, ঢাকা থেকে খুলনাগামী নীল রঙের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মোটরসাইকেল আরোহীকে বাসের নিচে ফেলে অন্তত ২০০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়। কিছু দূরে গিয়ে আরোহীর ক্ষত–বিক্ষত দেহ পড়ে গেলেও মোটরসাইকেলটি আরও বহু দূরে নিয়ে যায়। আরোহীর মাথায় থাকা হেলমেটসহ মোটরসাইকেলটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেনাসদস্য সাহেব আলীর স্ত্রী তারিন খাতুন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান আছে। মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আসেন সাহেব। আজ সকালে তিনি বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। তখন সাহেব আলী বলেছিলেন, ‘মেয়ের দিকে খেয়াল রেখো। আব্বা-মার দিকে খেয়াল রেখো। সবাই ভালো থেকো, সুস্থ থেকো’। তিনি বলেন ‘আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচব? কে আমাদের দেখবে?’ একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারিন।

ফায়ার সার্ভিসের লোকজন সড়ক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি এক পাশে সরিয়ে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ ও আহ্লাদিপুর হাইওয়ে পুলিশ। আহ্লাদিপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হচ্ছে। বাসটি জব্দের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে খবর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।