সেন্ট মার্টিনের বালুচরে জন্ম নেওয়া কাছিমের বাচ্চারা ফিরে গেল আপন ঠিকানায়
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে গত তিন মাসে গভীর সমুদ্র থেকে আসা অলিভ রিডলে (জলপাই রং) প্রজাতির কয়েকটি কাছিম ডিম পেড়েছিল পাঁচ শতাধিক। সেই ডিম বালুচরের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ডিম থেকে জন্ম নেওয়া ৬০টি কাছিমের বাচ্চাকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় দুই দিন বয়সী বাচ্চাগুলো বালুচর থেকে পায়ে হেঁটে গভীর সাগরের দিকে নেমে যায়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দ্বীপের মেরিন পার্ক হ্যাচারিসংলগ্ন পশ্চিম সৈকতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের (নেকম) কর্মকর্তারা বাচ্চাগুলোকে সাগরে ছেড়ে দেন।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় মেরিন পার্কে সামুদ্রিক কচ্ছপের ডিম সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়ার তদারকি করে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট। বেশ কয়েক বছর ধরে সেন্ট মার্টিন সৈকত থেকে কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করছে সংস্থাটি। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। দুই মাস পর ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হয়। পরে বাচ্চাগুলো সাগরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি দিনের বেলায় একটি মা-কচ্ছপ একসঙ্গে ১০৮টি ডিম পাড়ে, যা গর্ত থেকে তুলে গলাচিপা এলাকার মেরিন পার্কের পরিবেশ অধিদপ্তরের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের সুপারভাইজার মাহে আলম সোহাগ বলেন, গত ২২ জানুয়ারি অলিভ রিডলে জাতের কচ্ছপ সেন্ট মার্টিন সৈকতে ডিম দিয়েছিল। এসব ডিম সংগ্রহ করে হ্যাচারিতে রাখা হয়। প্রথম দফায় ডিম থেকে জন্ম নিয়েছে ৬০টি বাচ্চা। সেগুলো আজ সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে।
মাহে আলম বলেন, দ্বীপে রাতে ছাড়া দিনের বেলায় কচ্ছপের ডিম পাড়ার ঘটনা ঘটেনি। সম্প্রতি দিনের বেলায় একটি মা-কচ্ছপ একসঙ্গে ১০৮টি ডিম পাড়ে, যা গর্ত থেকে তুলে গলাচিপা এলাকার মেরিন পার্কের পরিবেশ অধিদপ্তরের হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে কচ্ছপসহ সব সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নিরাপদ প্রজনন ও আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। ডিম পাড়তে আসা মা কচ্ছপের ঝুঁকির কারণ দ্বীপে ১২ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর। কুকুরগুলোর কারণে অনেক কচ্ছপ ডিম পাড়তে পারছে না।