হাতীবান্ধায় ব্যাংকের ভেতর থেকে খোয়া গেল শিক্ষিকার টাকা
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখায় এক শিক্ষিকার ব্যাংক থেকে তোলা ৪০ হাজার টাকা ব্যাংকের ভেতরেই খোয়া গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে জানাতে গেলে উল্টো তাঁকেই জোরপূর্বক ব্যাংক থেকে বের করে দেন বলে ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হাতীবান্ধা সোনালী ব্যাংকের ভেতরে ক্যাশ কাউন্টারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষিকা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের ঘুটিয়া মঙ্গলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলার গোতামারী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। নাজমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যখনই টাকা উত্তোলন করলাম, তখনই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি বললেন, “টাকাটা গুনে নেন।” আমি বললাম, গুনতে হবে না। তারপর উনি আবার বললেন, “ছেঁড়া আছে কি না দেখেন।” আমি তাতেও রাজি হইনি। কিন্তু উনি জোর করে টাকাটা হাত থেকে নিলেন এবং চোখের পলকে হাওয়া হয়ে গেলেন। আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। এ সময় আমি যে চিৎকার করব, সে শক্তিও হারিয়ে ফেলি। সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি দ্রুত ম্যানেজারের কাছে যাই, বিষয়টি অবগত করি। উনি কোনো আগ্রহ দেখালেন না, উল্টো আমাকে রাগ দেখিয়ে জোর করে ব্যাংক থেকে বের করে দেন।’
এ বিষয়ে তিনি ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে জানাতে গেলে উল্টো তাঁকেই জোরপূর্বক ব্যাংক থেকে বের করে দেন বলে ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই নারী নিজেই ওই লোককে টাকা দিয়েছেন। এখানে আমাদের কোনো করণীয় নেই।’ ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। সিসি ক্যামেরার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছে। এখনো কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা।
জানতে চাইলে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।