হাসপাতালে কিশোরীর মৃত্যু, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) তথ্যসেবা উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার বিকেলে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউপি তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মকলেছুর রহমানের (২৮) বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন।
৬ ডিসেম্বর ওই কিশোরী জীবাণুনাশক (বিষ) পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সংকটাপন্ন অবস্থায় স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আজ বুধবার দুপুরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই কিশোরীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত মকলেছুর এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
৬ ডিসেম্বর ওই কিশোরী জীবাণুনাশক (বিষ) পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাঁশোপাড়া ইউপি তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মকলেছুর রহমান দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তাকে ধর্ষণ করেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের দুজনের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা শুরু হলে মকলেছুরকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় কিশোরী। কিন্তু মকলেছুর রহমান নানা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার জের ধরে ৬ ডিসেম্বর সকালে জীবাণুনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই কিশোরী। স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে সে মারা যায়।
ওই কিশোরীর বাবা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মকলেছুর আমার মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইজ্জতহানি করেছে। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়ে তাঁর কাছে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়েছিল। কিন্তু তা দিতেও মকলেছুর অস্বীকার করেন। আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য মকলেছুরই দায়ী। আমি এর বিচার চাই।’
মকলেছুরের সঙ্গে ওই ছাত্রীর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তবে গ্রামের লোকজন বলাবলি করছে, ওই মেয়েকে নাকি মকলেছুর গোপনে বিয়ে করেছিল। তবে আমার ছেলে তাঁদের এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।
বুধবার সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে মকলেছুরের মুঠোফোনে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর বাবার ফোনে কল দিলে তাঁর মা মাকসুদা বিবি ফোন ধরে প্রথম আলোকে বলেন, মকলেছুরের সঙ্গে ওই ছাত্রীর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। তবে গ্রামের লোকজন বলাবলি করছে, ওই মেয়েকে নাকি মকলেছুর গোপনে বিয়ে করেছিল। তবে তাঁর ছেলে তাঁদের এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।
এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত মকলেছুর পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।