১১ মাসে রেসকিউ সেন্টারে ১৬৯ বন্য প্রাণী, নেই চিকিৎসক

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টার
ছবি: প্রথম আলো

মানুষের আক্রমণসহ নানা কারণে গত ১১ মাসে আহত, অসুস্থ হওয়া ১৬৯টি বন্য প্রাণীর সেবা ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া বন্য প্রাণী রেসকিউ সেন্টারে। প্রাণীপ্রেমিক ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এসব প্রাণী উদ্ধার করে।

তবে এখনো জানকিছড়া সেন্টারে বন্য প্রাণী চিকিৎসকের কোনো পদই নেই। বন্য প্রাণী সম্পর্কে অভিজ্ঞতা আছে এমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু কর্মী প্রাণীদের সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বনভূমির বিস্তৃতি ও গভীরতা হ্রাস, আবাসস্থল ও খাদ্যসংকটসহ নানা কারণে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে বন্য প্রাণী। তখন মানুষের তৈরি নানা ফাঁদে ধরা পড়ে আহত ও অসুস্থ হচ্ছে। পরিবেশগত কারণে কিছু প্রাণী ধরা পড়ার স্থানেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ প্রাণীকেই উদ্ধারের পর জানকিছড়া সেন্টারে নিয়ে আসা হয়।

২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত জানকিছড়া সেন্টারে বিভিন্ন প্রজাতির ১৬৯টি প্রাণী গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে এসব প্রাণীকে বন ও উন্মুক্ত স্থানে অবমুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে ২টি হরিণ, ১৫টি অজগর, ১৪টি বানর, ৪টি চশমাপরা হনুমান, ২টি মুখপোড়া হনুমান, ৬টি লজ্জাবতী বানর, ১টি সিংহ বানর, ৩টি গন্ধগোকুল ও ৩টি ভুবন চিল। রেসকিউ সেন্টারে বর্তমানে তিনটি ময়না, একটি ভুবন চিল, দুটি লজ্জাবতী বানর আছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ জানিয়েছে, ২০১৫ সালে চালুর পর জানকিছড়া সেন্টারে প্রায় দুই বছর একটি প্রকল্পের আওতায় একজন পশুচিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োজিত ছিল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে রেসকিউ সেন্টারে পশুচিকিৎসকসহ কোনো জনবল নেই। জানকিছড়া ক্যাম্পের তিনজন কর্মীকে রেসকিউ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের বন্য প্রাণীর সেবা-শুশ্রূষার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সেন্টারের জন্য কোনো পদ সৃষ্টি করা হয়নি। রেসকিউ সেন্টারে একজন নিয়মিত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্থায়ী কর্মী ও অপারেশন থিয়েটার সংযোজন করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কেন্দ্রে উন্নীত করা দরকার।