৩৭৫ শয্যার নতুন হাসপাতাল

হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেখান চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন। গতকাল  বেলা ১১টায়।  প্রথম আলো
হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দেখান চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন। গতকাল বেলা ১১টায়। প্রথম আলো

আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে চট্টগ্রামে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড। নগরের পাহাড়তলীতে ৩৭৫ শয্যার এই হাসপাতালটি ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। বেসরকারি পর্যায়ে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এটি।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্টের উদ্যোগে ৭ একর জায়গা নিয়ে এই হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। হাসপাতাল, নার্সেস এবং টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং আনুষঙ্গিক সেবা নিয়ে পাঁচটি ভবনে এই হাসপাতালের অবস্থান।

গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল হোসেন হাসপাতালটি ঘুরে দেখান। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রবিউল হোসেন বলেন, মূল তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এই হাসপাতাল করা হয়। এগুলো হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, রোগীদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা।

প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বায়োমেডিকেল বিষয়ে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান, রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিস্থাপন ও হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অস্ট্রিয়াভিত্তিক ভেমেডের প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইম্পেরিয়াল কর্তৃপক্ষ।

এই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স এবং মুমূর্ষু রোগীকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে স্থানান্তরের জন্য হেলিপ্যাডের ব্যবস্থা রয়েছে। থাকবে উন্নতমানের সার্বক্ষণিক জরুরি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক গাইনিসহ ১৪টি অপারেশন থিয়েটার।

নবজাতকদের জন্য রয়েছে ৪৪ শয্যার লিওনেল ইউনিট, ৮টি শিশু নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রও থাকবে।

ভারতের বিখ্যাত নারায়ণ হাসপাতাল এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল যৌথভাবে কার্ডিয়াক সেন্টার পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়।

রবিউল হোসেন বলেন, ২০০ নার্সকে চার মাস ধরে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫২ জন পরিচ্ছন্নকর্মীকেও হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৬৫ জন কনসালটেন্ট ৬৫টি কক্ষে পরামর্শ প্রদান করবেন। ৮৮টি একক কেবিন ও ৭৬টি দ্বৈত কেবিন, ১৬টি নার্স স্টেশন থাকবে এখানে। পরীক্ষা–নিরীক্ষার সুবিধাও রয়েছে এখানে। রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মোট আয়তন ৬৬ হাজার বর্গফুট।

এ সময় ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের কমিশনিং কনসালটেন্ট এড লি হ্যানসন, যেসব রোগী বিদেশ যেতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁদের এখানে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য এই হাসপাতাল করা হয়েছে।

ইউরোপিয়ান কনসালটেন্ট নকশানুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অগ্নিঝুঁকি মুক্ত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত সহনশীল সরঞ্জাম নিয়ে নির্মিত হয়েছে।