৫৭ বছর পর কাল থেকে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী পথে চলবে ট্রেন

ট্রেন
প্রতীকী ছবি

প্রায় ৫৭ বছর পর বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ী সীমান্ত হয়ে আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। কাল বুধবার ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ নামের ট্রেনটি সেখানকার সময় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি স্টেশনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে। স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছাবে। সেখানে ৩০ মিনিট বিরতির পর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এই স্টেশনে পৌঁছাবে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।

দুই দেশের মধ্যে পুরোনো রেলপথটিতে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয় ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধের সময়। এর পর থেকে রেলপথটি পরিত্যক্ত। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর এই পথে পণ্যবাহী ট্রেন এবং গত বছরের ২৭ মার্চ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা মহামারির মধ্যে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকলেও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু করা যাচ্ছিল না।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলবে সপ্তাহের চার দিন। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়বে রোববার ও বুধবার। অপরদিকে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে ছাড়বে সোমবার ও বৃহস্পতিবার। রাত রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ছেড়ে চিলাহাটি সীমান্ত স্টেশনে পৌঁছাবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে। সেখানে আধা ঘণ্টা বিরতির পর সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ভারতীয় সময় সকাল ছয়টায় হলদিবাড়ী ও সকাল সোয়া ৭টায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছাবে ট্রেনটি।

এই ট্রেনে তিন ক্যাটাগরির আসন আছে। এসি বার্থের ভাড়া ৫ হাজার ২৫৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৩ হাজার ৪২০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ২ হাজার ৭৮০ টাকা (৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্সসহ)। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত যাত্রীদের অর্ধেক ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। ডলারের মূল্যমানে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ছয় মাস পর ডলারের মূল্যমান নির্ধারণ করে ভাড়ার পরিবর্তন হতে পারে। পথটি দিয়ে চলাচল করা ট্রেনটির আয় থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশ এবং ২০ শতাংশ পাবে ভারতীয় রেলওয়ে।

চিলাহাটির স্টেশন মাস্টার মো. ময়নুল হোসেন বলেন, ‘আপাতত চিলাহাটি স্টেশনে টিকিট বিক্রি এবং আসন বরাদ্দের কোনো নির্দেশনা পাইনি। টিকিট সংগ্রহ করা যাবে চট্টগ্রাম ও ঢাকা স্টেশন থেকে। এ স্টেশনে ইমিগ্রেশন বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ড হবে না। সীমান্ত স্টেশন হওয়ায় ট্রেনটি এসে দাঁড়াবে এবং প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ছেড়ে যাবে।’

চিলাহাটি রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আবদুর রহীম জানান, বন্ধ রেলপথটি চালু করতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বর্তমান সরকার। প্রকল্পটির মধ্যে ছিল চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ ও দুই দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ।