৯০ বছরের হোসনে আরাকে আর মানুষের বাড়িতে থাকতে হবে না

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নতুন বাড়ি পেয়ে খুশি হোসনে আরা বেগম
ছবি: প্রথম আলো

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার থানা পাড়া গ্রামের ৯০ বছরের হোসনে আরা বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ, স্মৃতিশক্তিও তেমন নেই। হোসনে আরার স্বামী আবদুস সালাম ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। তিন মেয়ের সবাইকে বিয়ে দিয়ে তিনি মানুষের আশ্রয়ে থাকতেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা বাড়ি ও দুই শতক জমির দলিল পেয়েছেন হোসনে আরা।

গতকাল দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হোসনে আরার সঙ্গে দেখা হলো। ঘর পেয়ে কেমন লাগছে, জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, ‘আর মানুষের বাড়িতে থাকতে হবে না, এখন নিজের পাকা বাড়িতে থাকব।’ হোসনে আরার মতো দীঘিনালার ১৮০ গৃহ ও ভূমিহীন দরিদ্র পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকা ঘর ও দুই শতক জমি পাচ্ছে।

বোয়ালখালী (সদর) ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কামাল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ৯০ বছরের হোসনে আরা বেগমের কেউ নেই। ৫০ বছর আগে তাঁর স্বামীও মারা গেছেন। মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে তিনি থাকতেন। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘরে পেয়ে তাঁর একটি স্থায়ী আশ্রয় হয়েছে।

পাবলাখালী মিলনপুর শিবিরের শারীরিক প্রতিবন্ধী দুলাল খাঁ (৮০) বলেন, ‘বৃষ্টিতে আমার জরাজীর্ণ ঘরে পানি পড়ত, ঘুমাতে পারতাম না, সবকিছু ভিজে যেত। প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাওয়ায় এখন শান্তিতে ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুমাতে পারব।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, তৃতীয় পর্যায়ে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভূমি ও গৃহহীন ১৮০ পরিবারকে ঘরপ্রতি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০টি পরিবারের ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি পরিবারের হাতে ঘর ও ভূমির কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা মুস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে কয়েক দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর শতভাগ ভূমি ও গৃহহীনকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় যাতায়াত সমস্যার কারণে ঘরের মালামাল পরিবহনে কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।