ভারতের আধিপত্য থেকে দেশকে মুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: আসিফ নজরুল

‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলছবি: খালেদ সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে বলে উল্লেখ করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলা যাচ্ছে। এই সরকারের তিন থেকে চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শিরোনামে এক ‘পলিসি ডায়ালগে’ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এসব কথা বলেন। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, তাঁর নিজের কাছে মনে হয় বাংলাদেশে এখন বাক্‌স্বাধীনতা সবার আছে, শুধু সরকারের যাঁরা আছেন, তাঁদের নেই। এটা তিনি প্রতিনিয়ত অনুভব করেন।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায় উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এখন দশটা জিনিসের মধ্যে সরকার যদি চারটা জিনিস করে, সেই চারটা জিনিস করেছে স্বীকার করে বাকি যে ছয়টা করতে পারেনি, সেটার জন্য সমালোচনা করলে সমস্যা নেই। তিনি বলেন, ‘কিন্তু একদম কিছুই দেখবেন না, কিছুই হয়নি। কিছুই হয়নি যখন আপনারা রেসপন্সিবল পজিশনে থাকা লোকজন বলেন, তখন খুব দুঃখ লাগে যে আসলে কি সৎভাবে সমালোচনা করেন?’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের সরকারের সাফল্য নিয়ে অনেক সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু আপনাদের কি কিছু জিনিস কখনো চোখে পড়েনি, এই যে এই সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে, এটা আমাদের কোনো অর্জন না?’

সাইবার বুলিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা বলেন বুকে হাত দিয়ে, বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং কার এগেইনস্টে (বিরুদ্ধে) হয়েছে? আমার এগেইনস্টে হয়েছে।...শুধু চারটা ডেডিকেটেড ভিডিও করা হয়েছে আমার সমালোচনা করে। আমি ১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, ওভারনাইট (রাতারাতি) আমি ভারতের দালাল হয়ে গেছি। আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, আমার পরিবার চলে গেছে অলরেডি আমেরিকায়।...যে–ই মিথ্যুক, যে–ই বদমাইশ বা যে–ই বদমাইশরা এগুলো প্রচার করেছে, তাদের এগেইনস্টে কেউ কিছু বলেছেন?’

আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘একজন বলে গেলেন যে আমরা কেন পদত্যাগ করি না?...আমাদের অন্তত তিন-চারজন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করতে চেয়েছে। এই অন্যায়, আক্রমণ, অন্যায় সমালোচনা, সারাক্ষণ গালাগালি, অশ্লীল, অশ্রাব্য গালাগালি, প্রাণনাশের আশঙ্কা। মানে প্রাণনাশের হুমকি। অবর্ণনীয় জীবন। এই জীবন কে উপভোগ করে? আমাদের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন যে একটা টিম। একজন পদত্যাগ করলে আরেকজনের মনোবল নষ্ট হবে, আরও দাবি আসবে। আমরা কোনো কাজ করতে পারব না, কাজ করে যাও। কাজ করে যাচ্ছি।...যখন আমাদেরও বলার সময় আসবে, সবকিছু জানবেন। বাংলাদেশে থাকব, সমস্ত কিছুর উত্তর দেব এবং আমার তো নিশ্চয়ই সততা ও আত্মবিশ্বাস আছে।’

সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় পলিসি ডায়ালগে আরও বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া, ইরাবতীর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. মুকতাদির রশীদ প্রমুখ।