সব ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল ঢেকে দিতে, বেষ্টনী নির্মাণ ও সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ
ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে সব ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল ঢেকে দিতে, সুরক্ষাবেষ্টনী নির্মাণ ও স্পষ্ট সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেন। গাজীপুরের টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় নালায় পড়ে ফারিয়া তাসনিম ওরফে জ্যোতির (৩২) নিখোঁজের পর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রিটটি করা হয়।
হাইকোর্ট ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থতা ও ভুক্তভোগীর (ফারিয়া তাসনিম ওরফে জ্যোতির) মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার সচিব, গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বিবাদীদের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ করা এবং তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, গত ২৭ জুলাই রাতে গন্তব্যে ফেরার পথে ওই নারী হোসেন মার্কেট এলাকায় ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে খোলা ম্যানহোলে পড়ে যান। ৩৭ ঘণ্টা পর ২৯ জুলাই টঙ্গীর শালিকচূড়া বিল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।
ওই নালার রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গত ২৪ আগস্ট রিটটি করে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্লাস্টের প্যানেল আইনজীবী আনিতা গাজী রহমান, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী। আসকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
পরে আইনজীবী জয়দীপ্তা দেব চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে টঙ্গীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ফুটপাতসংলগ্ন এলাকার উন্মুক্ত ওই ড্রেন সুরক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তার পরিপন্থী কেন ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
ব্লাস্ট জানায়, অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায় যে ঢাকনাবিহীন ওই ম্যানহোল দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে ছিল; সেগুলোর আশপাশে কোনো ধরনের নিরাপত্তাবেষ্টনী বা সতর্কীকরণ চিহ্ন ছিল না। একই স্থানে ইতিপূর্বে আরও একজন নারী পড়েছিলেন, যাঁকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলগুলো সংস্কার করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতার অভাব লক্ষ করা গেছে।